জাতীয়

হাজযাত্রীদের কষ্ট বা জুলুম হলে বরদাশত করা হবে না— ২০২৭ সালের হজ প্রস্তুতিতে ধর্মমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর – পবিত্র হজের আমানত রক্ষায় এবং আল্লাহর মেহমান হজযাত্রীরা যাতে কোনো প্রকার কষ্ট, অবহেলা বা জুলুমের শিকার না হন, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। হাজিদের সেবায় বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকে দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কাজের ক্ষেত্রে যেকোনো হয়রানি বন্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ৩০টি অ্যালায়েন্স বা লিড এজেন্সির অনুকূলে হজযাত্রী কোটা বণ্টন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হজ পরিচালনা ও সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশাবলী

২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজ সম্পন্ন: মন্ত্রণালয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজের জন্য কেউ এলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। কর্মকর্তা কর্তৃক কাউকে অযথা ঘোরানো বা হয়রানি করা হলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

দোষারোপ নয়, সমাধান: যেকোনো ভুলত্রুটিতে একে অপরকে দোষ না দিয়ে দ্রুত সমাধান খুঁজে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।

নিজেদের ‘খাদিম’ মনে করা: হজ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল আমানত। তাই কর্মকর্তা ও এজেন্সি সবাইকে নিজেদের ‘খাদিম’ বা সেবক মনে করে হজ কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।

সৌদি বিধিবিধান পালন: সৌদি আরবের ঘোষিত সকল নিয়মকানুন ও বিধিবিধান হুবহু মেনে হজ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৭ সালের হজের প্রারম্ভিক কোটা ও বণ্টন ব্যবস্থা

সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার গুরুত্বপূর্ণ কোটা সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন:

মোট প্রাথমিক কোটা: সৌদি সরকারের প্রাথমিক নির্ধারণ অনুযায়ী ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের মোট কোটা নির্ধারিত হয়েছে ৭৮,৫০০ জন।

বেসরকারি এজেন্সির ভূমিকা: মোট কোটার সরকারি অংশ বাদ দিয়ে বাকি সিংহভাগ কোটাই বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর (৩০টি লিড এজেন্সি বা অ্যালায়েন্স) অনুকূলে বণ্টন করা হবে।

সাধারণ ও হজে গমনেচ্ছুদের প্রতিক্রিয়া

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই আগাম প্রশাসনিক তৎপরতা ও কঠোর হুঁশিয়ারিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। প্রতি বছরই অনেক হজযাত্রী এজেন্সিগুলোর গাফিলতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। সরকার যদি এখন থেকেই কড়া নজরদারি এবং ২৪ ঘণ্টার সেবা নিশ্চিত করে, তবে ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনা অনেক সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন হবে।

এনএন/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language