সম্পাদকের পাতা

প্রেমের টানে সাইকেলে ভারত থেকে সুইডেন

নজরুল মিন্টো

প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে একটি পুরোনো সাইকেলে চড়ে ভালোবাসার মানুষটির কাছে পৌঁছাতে ভারত থেকে সুইডেনের পথে বেরিয়ে পড়েছিলেন এক তরুণ শিল্পী। সেই প্রেমযাত্রা এত বছর পর আবার আলোচনায় এসেছে। পি কে মহানন্দিয়া ও শার্লট ফন শেডভিনের জীবন নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র The Cycle of Love গত ২৮ আগস্ট নিউইয়র্কে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। অস্কারজয়ী পরিচালক অরল্যান্ডো ফন আইনসিডেল নির্মিত এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নির্বাহী প্রযোজনায় তৈরি ছবিটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শিত হচ্ছে। সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাজ্যেও এর একাধিক প্রদর্শনী নির্ধারিত রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর আগের সেই প্রেমকাহিনি তাই নতুন করে পৌঁছে যাচ্ছে আরেক প্রজন্মের কাছে।

১৯৭৭ সালের ঘটনা। ভালোবাসার মানুষটি ফিরে গেছেন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ সুইডেনে। বিমানের টিকিট কেনার সামর্থ্য নেই। কিন্তু তাই বলে তাঁর কাছে যাওয়া হবে না, এমন কথাও মানতে রাজি নন ভারতের তরুণ শিল্পী পি কে মহানন্দিয়া। নিজের কিছু জিনিসপত্র বিক্রি করে কিনলেন একটি সাইকেল। সঙ্গে পাসপোর্ট, একজোড়া বাড়তি প্যান্ট, স্লিপিং ব্যাগ আর জামাকাপড়ের ভেতরে সেলাই করে রাখা ৮০ ডলার। তারপর দিল্লি থেকে পশ্চিমের দিকে প্যাডেলে পা রাখলেন। সামনে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, তুরস্ক হয়ে ইউরোপের দীর্ঘ অজানা পথ। আর সেই পথের শেষে একজন মানুষ, শার্লট।

কিন্তু এই দীর্ঘ যাত্রার গল্প শুরু হয়েছিল সাইকেলের প্যাডেলে নয়, আরও দুই বছর আগে একটি প্রতিকৃতি আঁকার মধ্য দিয়ে। ১৯৭৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর। দিল্লির কনট প্লেসে মানুষের প্রতিকৃতি আঁকছিলেন মহানন্দিয়া। সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালেন লম্বা সোনালি চুল ও নীল চোখের এক সুইডিশ তরুণী। নাম অ্যান-শার্লট ফন শেডভিন, ডাকনাম লোটা। কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে একটি ফক্সওয়াগন ভ্যানে চড়ে ইউরোপ থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন তিনি। দিল্লিতে মহানন্দিয়াকে মানুষের প্রতিকৃতি আঁকতে দেখে নিজের ছবিও আঁকানোর ইচ্ছা হলো তাঁর।

মহানন্দিয়া কাগজে শার্লটের মুখ ফুটিয়ে তুলতে বসলেন। কিন্তু হাত যেন ঠিকমতো চলছিল না। এত সুন্দর একজন মানুষের প্রতিকৃতি নষ্ট করে ফেলবেন, এই ভয়েই নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রথম ছবিটি তাঁর নিজেরই পছন্দ হলো না। শার্লটকে বললেন, পরদিন আবার আসতে পারবেন কি না।

শার্লট এলেন। তারপর আবার এলেন। মোট তিনবার তাঁর প্রতিকৃতি আঁকলেন মহানন্দিয়া। প্রথমবার ছবির দাম ছিল ১০ রুপি। শার্লট দিলেন ২০। মহানন্দিয়া ভেবেছিলেন, বিদেশিনী হয়তো টাকার হিসাব বুঝতে ভুল করেছেন। বাড়তি ১০ রুপি ফিরিয়ে দিতে গেলে শার্লট তাঁকে সেটি রেখে দিতে বললেন। পরদিন তিনি আবার এলেন আরেকটি প্রতিকৃতি আঁকাতে। তারপর তৃতীয় দিনও। কে জানত, সেই প্রতিকৃতি আঁকতে আঁকতেই দুজনের জীবনের ছবিটাও বদলে যেতে শুরু করবে।

তবে শার্লটকে দেখে মহানন্দিয়ার অস্থির হওয়ার পেছনে শুধু তাঁর সৌন্দর্য ছিল না। শৈশব থেকে বহন করে বেড়ানো একটি আশ্চর্য ভবিষ্যদ্বাণীও ছিল। মহানন্দিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর জন্মের পর গ্রামের এক জ্যোতিষী পরিবারকে জানিয়েছিলেন, ছেলেটির বিয়ে প্রচলিতভাবে ঠিক করা কোনো মেয়ের সঙ্গে হবে না। তাঁর স্ত্রী আসবেন বহু দূরের দেশ থেকে। তিনি হবেন বৃষ রাশির জাতিকা, সংগীত জানবেন। কথাটি বহু বছর ধরে তাঁর মনে ছিল। কনট প্লেসে সুইডিশ তরুণীটির সঙ্গে পরিচয়ের পর হঠাৎ সেই পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী আবার মনে পড়ে গেল।

কৌতূহলী মহানন্দিয়া একে একে শার্লটকে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন। তাঁর রাশি বৃষ কি না জানতে চাইলে শার্লট বললেন, হ্যাঁ। এরপর জানতে চাইলেন, তিনি বাঁশি বাজান কি না। শার্লট জানালেন, বাঁশি ও পিয়ানো দুটিই তাঁর প্রিয়। উত্তরগুলোর এমন মিল দেখে মহানন্দিয়ার বিস্ময় আরও বেড়ে গেল। শৈশবে শোনা ভবিষ্যদ্বাণী যেন হঠাৎ তাঁর সামনে একজন মানুষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহানন্দিয়ার কাছে আর কোনো সন্দেহ রইল না। ভাঙা ইংরেজিতে প্রায় ঘোষণার মতো করে জানিয়ে দিলেন, তাঁদের দেখা হওয়া নাকি স্বর্গেই নির্ধারিত হয়েছিল। এমনকি শার্লট তাঁর স্ত্রী হবেন বলেও বলে ফেললেন। সদ্য পরিচিত একজন ভারতীয় তরুণের মুখে এমন কথা শুনে শার্লট চাইলে সরে যেতে পারতেন। তিনি তা করেননি। বরং মহানন্দিয়ার কথা শুনলেন, তাঁর পরিবার সম্পর্কে জানলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে গ্রামের বাড়িতেও গেলেন।

সেখানেই সম্পর্ক আর প্রতিকৃতির গল্পে আটকে থাকল না। মহানন্দিয়ার বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় হলো শার্লটের। মহানন্দিয়ার মা তখন বেঁচে ছিলেন না। পরিবারের আশীর্বাদে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে স্থানীয় আদিবাসী রীতিতে দুজনের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মহানন্দিয়া পরে সেই দিনের কথা স্মরণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, সূর্যমন্দিরে শার্লট যখন তাঁকে চুমু দিয়েছিলেন, তাঁর মনে হয়েছিল যেন আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছেন।

কিন্তু ভালোবাসার সেই কয়েক সপ্তাহ খুব দ্রুত ফুরিয়ে গেল। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে শার্লটকে সুইডেনে ফিরতে হলো। আবার সেই ফক্সওয়াগন ভ্যানে উঠে বন্ধুদের সঙ্গে ইউরোপের দিকে রওনা হলেন তিনি। মহানন্দিয়া রয়ে গেলেন ভারতে।

আজকের পৃথিবীতে দূরত্ব সামলানো তুলনামূলক সহজ। ফোন আছে, ভিডিও কল আছে, মুহূর্তেই ছবি পাঠানো যায়। কিন্তু সত্তরের দশকের সেই প্রেমে অপেক্ষার মাপ ছিল অন্য রকম। ভারত আর সুইডেনের মাঝখানে ভালোবাসা যাতায়াত করত খামের ভেতর। চিঠি লিখতেন দুজন। দিল্লিতে আগের জায়গাতেই পর্যটকদের প্রতিকৃতি আঁকতেন মহানন্দিয়া। সুইডিশ কেউ এলে নাকি মজা করে তাঁর ছবি বিনা পয়সায় এঁকে দিতেন। এভাবে প্রায় দেড় বছর কেটে গেল। শেষ পর্যন্ত তাঁর মনে হলো, চিঠি দিয়ে আর হবে না। শার্লটকে সামনে থেকে দেখতে হবে। কিন্তু কীভাবে?

বিমানের টিকিট কেনা ছিল তাঁর নাগালের বাইরে। তখনই মাথায় এলো সাইকেলের কথা। নিজের যা কিছু বিক্রি করা যায়, বিক্রি করে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড সাইকেল কিনলেন। ১৯৭৭ সালের শুরুতে দিল্লি থেকে রওনা হলেন। সামনে কোনো গুগল ম্যাপ নেই, মোবাইল ফোন নেই, ক্রেডিট কার্ড নেই। কিন্তু ছিল সুইডেনে পৌঁছানোর একরোখা ইচ্ছা। The Guardian তাঁর এই অভিযাত্রাকে প্রায় ৭,০০০ কিলোমিটারের পথ বলে বর্ণনা করেছে।

সত্তরের দশকে ইউরোপ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত যে বিখ্যাত ‘হিপ্পি ট্রেইল’ ধরে বহু তরুণ ভ্রমণ করতেন, মহানন্দিয়ার যাত্রাও মূলত সেই পথের সঙ্গে মিশে যায়। এই পথ ধরে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান ও তুরস্ক হয়ে তিনি পশ্চিমের দিকে এগোতে থাকলেন। কোনো দিন দীর্ঘ পথ সাইকেল চালাতেন, কোনো দিন ট্রাকের পেছনে উঠে কিছুটা পথ পাড়ি দিতেন। কখনো খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন, কখনো অচেনা মানুষ ঘরে ডেকে নিয়েছে। খাবারের নিশ্চয়তা ছিল না, থাকার জায়গারও নয়। তবে তাঁর সঙ্গে এমন একটি দক্ষতা ছিল, যা প্রায়ই অর্থের কাজ করত। সেটি ছবি আঁকা।

পাকিস্তানের সীমান্তে কড়া মেজাজের কর্মকর্তাদের প্রতিকৃতি এঁকে তাঁদের মন জুগিয়েছিলেন। পুরোনো ভিসা নিয়ে ঝামেলায় পড়লে এক প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তার ছবি এঁকে পরিস্থিতি সহজ করেছিলেন। পথে মানুষের মুখ এঁকে কখনো পেয়েছেন টাকা, কখনো খাবার, কখনো মাথা গোঁজার জায়গা। শার্লট পরে বলেছিলেন, শিল্প যেন মহানন্দিয়ার এক ধরনের মুদ্রা হয়ে উঠেছিল। ভাষা না মিললেও একজন মানুষের সামনে বসে তাঁর মুখ আঁকতে শুরু করলে অল্প সময়েই দূরত্ব কমে যেত।

যাত্রাপথে একদিন এক বেলজিয়ান ভ্রমণকারীর সঙ্গে আলাপে মহানন্দিয়া জানতে পারলেন এমন একটি তথ্য, যা শুনে তাঁর মাথায় হাত পড়ার জোগাড়। Sweden আর Switzerland এক দেশ নয়। তিনি যে সুইডেনে যাচ্ছেন, সেটি তাঁর ধারণার চেয়েও আরও দূরে। পরে ঘটনাটি হাসতে হাসতে বললেও সেদিন খবরটি তাঁর জন্য মোটেই সুখবর ছিল না। এতদূর এসে অবশ্য ফেরার প্রশ্নও ছিল না।

আফগানিস্তানে একটি ঘটনা তাঁর যাত্রাকে অন্য এক মানবিক গল্পের সঙ্গে জুড়ে দেয়। গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক জার্মান তরুণীকে সাহায্য করেছিলেন মহানন্দিয়া। পরে সেই তরুণী দেশে ফিরে তাঁর কথা ভুলে যাননি। মহানন্দিয়া ইউরোপের দিকে এগোতে থাকলে একসময় তিনিই তাঁকে ভিয়েনা পর্যন্ত যাওয়ার ট্রেনের টিকিট পাঠিয়ে দেন।

আফগানিস্তানের হেরাতে ঘটেছিল আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা। সেখানে এক শিল্পীর সঙ্গে মহানন্দিয়ার পরিচয় হয়। সেই মানুষটি নিজের এক ছাত্রীর প্রেমে পড়েছিলেন, কিন্তু সামাজিক বাধার কারণে বিয়ে করার সাহস পাচ্ছিলেন না। নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে পৌঁছাতে ভারত থেকে এতদূর আসা মহানন্দিয়ার গল্প শুনে তিনি বিস্মিত হন। মহানন্দিয়া তাঁকে নিজের হৃদয়ের কথা শুনতে বলেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই প্রেমিক যুগল আফগানিস্তান ছেড়ে রাশিয়ায় গিয়ে সংসার গড়েছিলেন। নিজের প্রেমের পথে চলতে গিয়ে অন্য একটি সম্পর্কেও সামান্য সাহস জোগাতে পেরেছিলেন তিনি।

তবে পথের প্রতিটি দিন এমন ছিল না। পুরোনো সাইকেলটিও একসময় বদলাতে হয়েছিল। দিনের পর দিন চলতে গিয়ে পায়ে ব্যথা হতো, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ত। সবচেয়ে বড় বাধা ছিল নিজের ভেতরের ভয়। কখনো তাঁর মনে হতো, হয়তো পথেই মারা যাবেন, শার্লটের কাছে আর পৌঁছানো হবে না। ভালোবাসা নিয়ে সন্দেহ ছিল না, সন্দেহ ছিল নিজের শরীর এই যাত্রা শেষ করতে পারবে কি না।

ভিয়েনায় পৌঁছে তাঁর গল্প ও ছবি দেখে মুগ্ধ হন এক গ্যালারি মালিক। তিনিই কোপেনহেগেন হয়ে গোথেনবার্গ যাওয়ার টিকিটের ব্যবস্থা করেন। ফলে শেষ অংশ আর প্যাডেল চালিয়ে পাড়ি দিতে হয়নি। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সেই অভিযান শেষে ১৯৭৭ সালের মে মাসে মহানন্দিয়া পৌঁছে গেলেন সুইডেনে।

কয়েক মাসের রাস্তা, অসংখ্য অচেনা মানুষ, সীমান্ত, ভাষা, ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার পর যে মানুষটির জন্য এতটা পথ এসেছেন, তিনি তখন সামনে। প্রায় ১৬ মাস আগে যাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন, সেই শার্লট। পুনর্মিলনের মুহূর্তে মহানন্দিয়া আবেগ সামলাতে পারেননি। তাঁর চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়েছিল। শার্লট তাঁকে নিয়ে গেলেন কাছের একটি পার্কে। ফুলের মধ্যে বসে দুজন কফি খেলেন। এত দিন যাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কাগজের চিঠিতে, তিনি তখন পাশে বসে আছেন।

সুইডেনে পৌঁছানো মানেই অবশ্য সব বাধা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। দুজন এসেছেন সম্পূর্ণ আলাদা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ থেকে। শুরুতে শার্লটের পরিবারে সংশয় ছিল। কিন্তু মেয়ের সিদ্ধান্ত এবং মহানন্দিয়াকে কাছ থেকে জানার পর তাঁর মা-বাবা তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেন।

তারপর কেটে গেছে পাঁচ দশক। মহানন্দিয়া ও শার্লট সুইডেনে সংসার গড়েছেন। তাঁদের দুই সন্তান, এমেলি ও কার্ল সিদ্ধার্থ। মহানন্দিয়া শিল্পী হিসেবেও কাজ চালিয়ে গেছেন। তাঁর শিল্পকর্ম বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত হয়েছে এবং UNICEF-এর গ্রিটিং কার্ডেও তাঁর কাজ ব্যবহৃত হয়েছে। ওডিশা সরকার তাঁকে সুইডেনে ওডিয়া সংস্কৃতির দূত হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে।

কিন্তু তাঁর আঁকা যত ছবিই পৃথিবীর নানা জায়গায় পৌঁছাক, মানুষের স্মৃতিতে সম্ভবত সবচেয়ে স্থায়ী হয়ে আছে অন্য একটি ছবি। একটি সাইকেলের ওপর বসা তরুণ। সামনে দীর্ঘ রাস্তা। আর সেই রাস্তার শেষে একজন নারী।

এই প্রেমকাহিনি নিয়ে সুইডিশ সাংবাদিক পের জে অ্যান্ডারসন লিখেছেন The Amazing Story of the Man Who Cycled From India to Europe for Love। সেই গল্পই এখন The Cycle of Love তথ্যচিত্র হয়ে পর্দায় ফিরেছে। ছবিটিতে বর্তমানের মহানন্দিয়া ও শার্লট নিজেদের গল্প বলেছেন, আর অভিনেতারা পর্দায় তুলে ধরেছেন তাঁদের তরুণ বয়সের দিনগুলো।

পৃথিবীতে প্রেমের গল্পের অভাব নেই। কেউ কবিতা লিখেছেন, কেউ ঘর ছেড়েছেন, কেউ দেশ ছেড়েছেন। মহানন্দিয়া করেছিলেন অন্য কিছু। তিনি সাইকেলের প্যাডেলে পা রেখেছিলেন। তাঁর কাছে হয়তো সেটি কোনো বীরত্ব ছিল না, ছিল সামর্থ্যের মধ্যে ভালোবাসার মানুষের কাছে পৌঁছানোর একটি উপায়। কিন্তু সেই সাধারণ সিদ্ধান্তই সময়ের সঙ্গে অসাধারণ হয়ে উঠেছে।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পরও তাই তাঁর গল্পটি পুরোনো হয়ে যায়নি। সব প্রেমের জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয় না। কিন্তু কখনো কখনো একজন মানুষের কাছে পৌঁছানোর টান এমন পথেও কাউকে নামিয়ে দেয়, যে পথের দূরত্ব মাইল কিংবা কিলোমিটারে মাপা যায়, কিন্তু সেই টানের হিসাব কোনো মানচিত্রে পাওয়া যায় না।

তথ্যসূত্র:
National Geographic
The Guardian

Back to top button
🌐 Read in Your Language