দক্ষিণ এশিয়া

ব্রিকসে যৌথ ঘোষণায় সই করছে সব দেশ, সন্ধ্যায় মুখোমুখি মোদী-শি জিনপিং

নয়াদিল্লি, ১২ সেপ্টেম্বর – কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে সদস্য দেশগুলো। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম না নিয়ে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে ‘ব্রিকস নয়া দিল্লি ঘোষণা’।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে ব্রিকসের মতো শক্তিশালী জোটের এই যৌথ অবস্থানকে ভারত তথা বিশ্ব রাজনীতির জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিরোধ থেকে ঐকমত্য: নেপথ্যের গল্প

ইরান-ইউএই বিরোধ সামাল: মে মাসে দিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) মতপার্থক্যের কারণে যৌথ ঘোষণা ভেস্তে যায়।

ভারতের ‘শেরপা’দের বাজিমাত: দুই মিত্র দেশের কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র পথ’—এই নীতিতে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনতে সফল হয়েছে ভারত।

সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ ও বৈঠক

শি জিনপিংয়ের সফর: দীর্ঘ ৭ বছর পর ভারতে পা রাখলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার সন্ধ্যায় নরেন্দ্র মোদীর সাথে তার হাই-প্রোফাইল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। |

পুতিন ও পেজেশকিয়ান: সম্মেলনের আগেই শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে পৃথক বৈঠক করেছেন মোদী। |

নিরাপত্তা ও জ্বালানি: বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ সুগম রাখার ওপর জোর দিয়েছে সম্মেলন। |

কেন এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাবের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক সংকট নিরসনে এশীয় ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ভারতের মধ্যস্থতা এবং শি-মোদীর দীর্ঘদিনের বরফ গলার সম্ভাবনা নতুন ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ তৈরি করছে।

এনএন/ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language