আফ্রিকা

কেনিয়ায় ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে ধর্মগুরু পল ম্যাকেনজির ২০০ বছরের কারাদণ্ড

ধর্মগুরু পল ম্যাকেনজি

নাইরোবি,০৭ নভেম্বর- কেনিয়ার একটি আদালত ১৯১ জন মানুষকে হত্যার দায়ে প্রলয়বাদী ধর্মগুরু পল ম্যাকেনজিকে ২০০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই ছিল শিশু। ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাওয়ার আশায় অনুসারীদের সন্তানদের অনাহারে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দায়ে ম্যাকেঞ্জি ও তার ২৮ সহযোগীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক ডায়ানা মোচাচে বলেন, অনুসারীদের না খাইয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় ম্যাকেঞ্জিই প্রধান অপরাধী। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিতেই তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল শাকাহোলা বনে ৪০০টির বেশি গণকবর ও মরদেহ উদ্ধারের পর আত্মঘোষিত এই যাজককে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত হত্যাসংক্রান্ত অপরাধের জন্য ম্যাকেঞ্জিকে ১০০ বছর এবং অনাহারে মৃত্যুর ঘটনায় আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। দুটি অপরাধের সাজা পরপর কার্যকর হওয়ায় তার মোট সশ্রম কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ২০০ বছর। একই ঘটনায় জড়িত তার ২৮ সহযোগীকেও সর্বোচ্চ ১৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন সেই প্রহরীরা, যারা অনুসারীদের অনাহারে থাকতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর করতেন। এ ছাড়া গণকবর খুঁড়তে সহায়তাকারীরাও রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ম্যাকেঞ্জির মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হলেও বিচারক মোচাচে তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে আসামির সংশোধন বা অনুশোচনার সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। যদিও কেনিয়ায় ১৯৮৭ সালের পর থেকে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ রয়েছে।

শাকাহোলা বনের ভেতরে গড়ে ওঠা এই ধর্মীয় গোষ্ঠী বা কাল্ট নিজেদের মতো করে একটি ব্যবস্থা চালু করেছিল। সেখানে অনাহারে মৃত্যুকে ‘যিশুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া’ হিসেবে উদযাপন করা হতো। এমনকি কেউ অনাহারে থাকতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনার পর কেনিয়ার ধর্মীয় সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারির অভাব এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এস এম/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language