ক্রিকেট

সিলেটে হৃদয়ের মহাকাব্য: মুশফিককে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের নতুন ইতিহাস

সিলেট, ০৭ নভেম্বর – সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলছে ইতিহাস রচনার মহোৎসব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার রোমাঞ্চ ছড়ানোর পর, এবার তিনি ভেঙে দিলেন বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের দীর্ঘদিনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটি! অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রানের রেকর্ড পেছনে ফেলে এখন ২৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন এই ডানহাতি সেনসেশন।

রেকর্ডের পাতায় নতুন রাজত্ব

২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের করা অপরাজিত ২১৯ রান দীর্ঘ আট বছর ধরে ছিল টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। তবে সিলেটে ক্যারিবিয়ান বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন হৃদয়।

এর আগে ৩০৪ বলে জোমেল ওয়ারিক্যানের বল মিড অনে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গল নিয়ে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবলে রূপ দেওয়ার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে মুশফিকুর রহিম (তিনটি), সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল ডাবল সেঞ্চুরি করলেও, প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবলে রূপ দেওয়ার বিরল রেকর্ড এই প্রথমবার দেখা গেল।

বাউন্ডারির ঝড়ে অনন্য মাইলফলক

শুধু রান সংগ্রহের দিক থেকেই নয়, বাউন্ডারির মারকাটারি রেকর্ডেও সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন হৃদয়। ৩৪৯ বলের মহাকাব্যের এই ইনিংসে তিনি হাঁকিয়েছেন ২২টি চার ও ১০টি ছক্কা! শুধু বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৪৮ রান, যা বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রান। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংসে ৩১টি চারের সাহায্যে ১২৪ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান—সেই রেকর্ডও আজ ভেঙে গেল। পাশাপাশি, টেস্ট ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডেও তিনি ছাড়িয়ে গেলেন ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবালের মারা ৭টি ছক্কার রেকর্ডকে।

ধস নামা ইনিংস থেকে রূপকথার প্রত্যাবর্তন

ম্যাচের শুরুর দৃশ্যপট অবশ্য এমন ছিল না। মাত্র ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে যখন চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ, তখন থেকেই দলের হাল ধরেন হৃদয়। এক প্রান্ত আগলে রেখে একে একে মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদদের বিদায় দেখতে হলেও নিজের দৃঢ়তা এক বিন্দুও কমেনি তার।

প্রথমে ১০৯ বলে ফিফটি এবং ১৭১ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ ১১৭ রানের জুটি। এমনকি ইনজুরিতে পড়ে পাঁজরে বলের আঘাত পাওয়ার পরও মাঠ ছাড়েননি তিনি; বীরের মতো লড়াই চালিয়ে দলের রানকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ১০১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩৭৬ রান, আর ২৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ মাত করছেন হৃদয়!

এনএন/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language