উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬: রাজনৈতিক শক্তি পরীক্ষা ও অর্থনীতির জটিল সমীকরণ

ওয়াশিংটন, ০১ নভেম্বর – প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছরের শেষ চার বছরের ক্ষমতার ঠিক মাঝামাঝি সময়ে আগামী ৩ নভেম্বর (২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুপ্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। মার্কিন শাসনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনের তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী।

এই নির্বাচনে ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৩টি আসন (সাথে ২টি বিশেষ আসনসহ মোট ৩৫টি আসন) চূড়ান্ত করার জন্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্য গভর্নর ও স্থানীয় পদগুলোতেও প্রতিনিধি বেছে নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট মার্কিন কংগ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং কংগ্রেস নির্বাচন সম্পূর্ণ পৃথক। ফলে নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও প্রেসিডেন্টের পদে তাঁর ক্ষমতার কোনো হানি ঘটবে না। তবে কংগ্রেসের দুটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হলে আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং নীতি বাস্তবায়নে চরম প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন তিনি।

| শাসন পরিষদ / শাখা | মোট আসন সংখ্যা | নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন | বর্তমান সম্ভাবনা ও লড়াই |

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস | ৪৩৫টি | সকল ৪৩৫টি আসন | ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার প্রবল ইঙ্গিত |

মার্কিন সেনেট | ১০০টি | ৩৩টি (নিয়মিত) + ২ (বিশেষ) | রিপাবলিকানদের আধিপত্য ধরে রাখার সম্ভাবনা |

রাজ্য গভর্নরশিপ | ৫০টি রাজ্য | বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য | অঙ্গরাজ্যগুলোতে স্থানীয় নীতি নির্ধারণের লড়াই |

বিভক্ত কংগ্রেস (Divided Congress): অর্থনৈতিক বিল থমকে যাওয়ার ভয়

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে বলা হয়ে থাকে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজের ওপর জনগণের সরাসরি ‘রেফারেণ্ডাম’ বা গণভোট।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়, তবে ওয়াশিংটন দেখবে বিভক্ত সরকার’ (Divided Congress)।

কর নীতি ও সামরিক ব্যয়ের বাধা: ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া ট্রাম্পের নতুন কোনো কর ছাড় প্রদান কিংবা সামরিক বাজেট বৃদ্ধির বিল প্রতিনিধি পরিষদে পাস করানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সরকারি ব্যয় ও স্টিমুলাস প্যাকেজ: বড় কোনো বাজেট প্যাকেজ অনুমোদনে বিরোধী দলের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে রিপাবলিকান প্রশাসন।

আইনি অচলাবস্থায় ট্রাম্পের ভরসা ‘এক্সিকিউটিভ অর্ডার’

কংগ্রেসে যদি আইন পাসের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি প্রেসিডেন্টের বিশেষ ক্ষমতা বা ‘নির্বাহী আদেশ’ (Executive Order) ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকে পড়তে পারে।

বাণিজ্য ও শুল্ক নীতি: দেশের বাইরের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপ, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নিজ একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

কঠোর শ্রম ও অভিবাসন নীতি: নতুন করে অভিবাসন আইন কড়াকড়ির মাধ্যমে বাইরের শ্রমিক প্রবেশ সীমিত রাখা হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে।

পুঁজিবাজারে সাময়িক তোলপাড়, অর্থনীতির চালিকাশক্তি কী?

নীতি নির্ধারণে অনিশ্চয়তার কারণে ও ঋণের সীমা (Debt Ceiling) নিয়ে ওয়াশিংটনে অচলাবস্থা তৈরি হলে তা মার্কিন শেয়ার বাজার ও বন্ড মার্কেটে সাময়িক অস্থিরতা ছড়াতে পারে।

তবে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচন যতই রাজনৈতিক ঝড় তুলুক না কেন, দীর্ঘমেয়াদে বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে মৌলিক সূচকগুলোই—যেমন জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি এবং করপোরেট কোম্পানিগুলোর মুনাফা।

এনএন/ ০১ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language