পর্তুগালে ভাড়া সংক্রান্ত বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, লিসবনের তাবু ক্যাম্প সরিয়ে দিল পুলিশ

লিসবন,০১ নভেম্বর- ভাড়া বিল প্রত্যাহারের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করার পর রবিবার লিসবনের রোসিও স্কয়ারে গড়ে তোলা তাবুর ক্যাম্প সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সরকারের এই বিল দেশের আবাসন সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
পর্তুগাল বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম ভয়াবহ আবাসন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছে দেশটির তরুণ সমাজ। ২০১৭ সালের পর থেকে পর্তুগালে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে বাড়িভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
পর্তুগালের আবাসন সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে—এমন একটি ভাড়া সংক্রান্ত বিল বাতিলের দাবিতে দেশটির সংখ্যালঘু মধ্য-ডানপন্থী সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শনিবার লিসবনের অন্যতম প্রধান স্কয়ারে আবারও হাজার হাজার আবাসন আন্দোলনকারী জড়ো হন।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে পর্তুগালে আবাসন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশেও সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে।
শনিবার মধ্য লিসবনে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে মিছিল হয়। মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা রোসিও স্কয়ারে ৫০টিরও বেশি তাবু খাটান।
ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে পুলিশ কুকুরসহ ডজনখানেক পুলিশ কর্মকর্তা তাবুর ক্যাম্পটি ঘিরে ফেলেন। এর আগে পুলিশ কমান্ডার ইউরি রদ্রিগেজ বিক্ষোভকারীদের তিনবার সতর্ক করে বলেন, বেআইনিভাবে খাটানো তাবুগুলো সরিয়ে না নিলে সেগুলো ভেঙে ফেলা হবে। বাধা দিলে অমান্যতার অভিযোগও আনা হতে পারে।
তাবুর ক্যাম্প ঘিরে রাখা কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে পুলিশ ঢাল ও লাঠি ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই সময়ে পোর্তোর দোম জোয়াও প্রথম স্কয়ার থেকেও তুলনামূলক ছোট একটি তাবুর ক্যাম্প সরিয়ে দেয় পুলিশ।
এর আগে সোশ্যালিস্ট আইনপ্রণেতা পেদ্রো দেলগাদো আলভেস জানান, রোসিও স্কয়ারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল। সেখানে এমন কিছু ঘটেনি, যা ‘লাঠিচার্জ বা শারীরিক শক্তির মতো পুলিশি হস্তক্ষেপকে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ করতে পারে—যে ধরনের দৃশ্য আমরা গত সপ্তাহেও দেখেছি।’
গত সপ্তাহেও একই জায়গাগুলো থেকে তাবুর ক্যাম্প সরানোর সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এ ঘটনায় ডজনখানেক মানুষকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশের কঠোর সমালোচনা হয়েছিল।
আবাসন খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের চিত্রই যেন পর্তুগালেও দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুই নেভেস জানান, সরকার বিক্ষোভের বৈধতাকে সম্মান করে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবাদ যেন ‘শৃঙ্খলা, ভদ্রতা’ ও ‘আইন মেনে’ করা হয়।
বিলটি বাতিলের দাবি
বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে এমন একটি বিল বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন, যার মাধ্যমে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সহজ করা হয় এবং নতুন ভাড়ার ওপর সর্বোচ্চ সীমা রাখার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়। সুদূর-ডানপন্থী ‘চেগা’ দলের ভোটদানে বিরত থাকার কারণে বিলটি পার্লামেন্টে প্রথম পাঠে পাস হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী লুই মোন্তেনেগ্রো গত বৃহস্পতিবার বিলটি পুরোপুরি বাতিল করার দাবি নাকচ করে দেন। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটের আগে বিলে সংশোধনী আনার বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘কাছাকাছি আসতে হবে’। তবে এটাও স্পষ্ট করেন যে সরকারের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনাই মূল ভিত্তি হিসেবে থাকবে।
সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা হোসে লুই কার্নেইরো শনিবার সরকারকে অহংকার করে নিজেদের চিন্তাভাবনা চাপিয়ে দেওয়া এবং কখনো কখনো কর্তৃত্ববাদী মনোভাব দেখানোর পরিবর্তে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।
এস এম/ ০১ নভেম্বর ২০২৬







