‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রস্তাব ঘিরে রণক্ষেত্র আর্মেনিয়ার পার্লামেন্ট! ঘুষি-লাথি থেকে ডেপুটি স্পিকারের চেয়ার ছোঁড়াছুড়ি

ইয়েরেভান, ৩১ অক্টোবর – আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে নারী ও জনসংখ্যা সংকট সংক্রান্ত এক পুরোনো বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ‘সব নারীকে সন্তুষ্ট করতে সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার একটি প্রস্তাব ঘিরে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীদের মধ্যে সৃষ্ট এই তুমুল উত্তেজনা একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। লাইভ সম্প্রচার চলাকালীন সংসদ সদস্যদের মধ্যে ঘুষি, লাথি এবং ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে বিরোধীদের লক্ষ্য করে চেয়ার ছুড়ে মারার মতো নজিরবিহীন ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যে মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আর্মেনিয়ার বিরোধী দল ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’-র প্রধান নারেক কারাপেতিয়ানের চাচাতো ভাই সারগিস কারাপেতিয়ান একটি পডকাস্টে অংশ নেন। সেখানে দেশের তীব্র জনসংখ্যা সংকট নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে তিনি একটি ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার বিতর্কিত প্রস্তাব দেন।
সারগিস দাবি করেছিলেন, তার পরিবার বা দল ক্ষমতায় এলে কোনো নারী আর অসন্তুষ্ট থাকবেন না এবং যৌনতা ছাড়া জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান অসম্ভব। নারীদের অবমাননাকর এই মন্তব্য সে সময়ই দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় তোলে।
পার্লামেন্টে যেভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ
ঘটনাটির রেশ ধরে সম্প্রতি আর্মেনিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করেন ক্ষমতাসীন ‘সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টি’র সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান। তিনি বিরোধী নেতা নারেক কারাপেতিয়ানের পরিবারের দুর্নীতির খতিয়ান টানার পাশাপাশি সারগিস কারাপেতিয়ানের সেই অবমাননাকর ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং এ নিয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
চাখোয়ানের এই বক্তব্যে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বিরোধী নেতা নারেক কারাপেতিয়ান অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করলে শুরু হয় তীব্র কথা-কাটাকাটি। অধিবেশনটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় পুরো দেশবাসীর সামনেই সংসদ সদস্যরা একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন।
ডেপুটি স্পিকারের চেয়ার ছুড়ে মারা ও প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বদলে স্পিকার রুবেন রুবিনিয়ান সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ না করে উল্টো জানান, “আমি চাই সবাই এসব দেখুক।” একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডেপুটি স্পিকার ভাগন আলেকসানিয়ান বিরোধী সংসদ সদস্যদের লক্ষ্য করে একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান সহিংসতার নিন্দা জানালেও নিজের দলের সংসদ সদস্যদের সরাসরি সমর্থন দেন। এমনকি বিরোধীদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারার ঘটনাটিকেও তিনি ‘উপযুক্ত ও যুক্তিসংগত প্রতিক্রিয়া’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করলে সরকার তাদের হাত ভেঙে দেবে।
মানবাধিকার কর্মীর উদ্বেগ
প্রধানমন্ত্রীর এহেন বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্মেনিয়ার মানবাধিকার রক্ষক আনাহিত মানসিয়ান। তাঁর মতে, শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের সহিংসতাকে সমর্থন জানানো সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও হিংসাত্মক মনোভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। পার্লামেন্ট কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক বিতর্ক ও মতপ্রকাশের সর্বোচ্চ স্থান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনএন/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬







