পুনেতে মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি: ৬ বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ১৮ তলা থেকে লাফ দিলেন মা

নয়াদিল্লি, ৩১ অক্টোবর – ভারতের পুনের পিম্পরি-চিনচদ কমপ্লেক্সে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ৩৩ বছর বয়সী এক মা দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও পারিবারিক হতাশা থেকে নিজের ছয় বছরের অবুঝ ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ১৮ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই করুণ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পেছনের বিবরণ
নিহত ওই নারীর নাম একতা ভাঙ্গে (৩৩) এবং তার ছয় বছর বয়সী ছেলের নাম মাধব ভাঙ্গে। তারা মূলত রাজস্থানের বাসিন্দা হলেও একতার স্বামী মনোজ পুনেতে একটি আইটি কোম্পানিতে চাকরি করার সুবাদে ওই কমপ্লেক্সের সপ্তম তলায় বসবাস করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মনোজ প্রতিদিনের মতো অফিসে চলে যান। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কমপ্লেক্সের বাসিন্দারা হঠাৎ ভারী কিছু পড়ার বিকট শব্দ শুনতে পান। নিচে গিয়ে তারা রক্তে ভেজা অবস্থায় মা ও ছেলের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ আরও রোমহর্ষক তথ্য পায়। দেখা যায়, একতা তার ছেলেকে নিয়ে সপ্তম তলা থেকে লিফটে করে সরাসরি ১৮ তলায় ওঠেন। সেখানে পৌঁছানোর পর জুতাগুলো খুলে রেখে নিজ হাতে ছেলেকে ধরে ওপর থেকে নিচে লাফ দেন।
সুইসাইড নোটে মিলল আত্মহত্যার কারণ
ঘটনার একদিন পর পুলিশ একতার লেখা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে। সেখানে তিনি নিজের মর্মান্তিক সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন:
অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা: তিনি দীর্ঘদিন ধরে মেরুদণ্ডের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন এবং কাঙ্ক্ষিত কোনো সুচিকিৎসা বা মুক্তি পাচ্ছিলেন না।
ছেলেকে নিয়ে বাঁচার আকুতি: নোটে একতা লিখেছেন, তার মৃত্যুর পর স্বামী যেন পুনরায় বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করতে পারেন। তবে নতুন মায়ের কাছে গেলে তার অবুঝ ছেলে কষ্ট পাবে—এই আশঙ্কায় তিনি শিশুটিকেও নিজের সঙ্গে পৃথিবী থেকে বিদায় করার পথ বেছে নেন।
শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক চরম হতাশা থেকে ঘটা এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা পুরো এলাকায় গভীর শোক ও স্তব্ধতার সৃষ্টি করেছে।
এনএন/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬







