ভুটানে হিমবাহের পানি উপচে বন্যা, ঝুঁকিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম

থিম্ফু, ৩০ অক্টোবর-উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদে হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ এবং আসামে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে গাসা জেলার মো ছু নদীর তীরের কাছে অবস্থিত জনপ্রিয় প্রাকৃতিক উষ্ণ পানির ঝরনা ‘গাসা ছাছু’র সব সুযোগ-সুবিধা ও স্থাপনা পুরোপুরি ভেসে গেছে। তবে আগেই এলাকাটি খালি করে দেওয়ায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
মো ছু নদীর উৎসে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদকে ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট বড় ধরনের হড়পা বানের কারণে মো ছু নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে গরম পানির ঝরনাটির দিকে চলে আসে। তখন শেষবারের মতো ভেসে গিয়েছিল গাসা ছাছু।
শুক্রবার সকালে বন্যার পানি পুনোখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে কাবেসা গেওগ-এর স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করেছে। ভুটান সরকার পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সরকারকে সতর্ক করেছে। কারণ, ভুটান সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আসামের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পাহাড়সহ আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলা।
পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে সংকোষ নদীর তীরে বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক করেছে প্রশাসন। উত্তর ভুটানে উৎপন্ন এই সংকোষ নদী মো ছু ও ফো ছুসহ প্রধান প্রধান উচ্চ উপনদীর সংযোগস্থলে গঠিত হয়েছে। পরে নদীটি আসামে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিশেছে।
পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ’ বলেন, ‘সবার কাছে আমার অনুরোধ, কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি, প্রশাসন পুরোপুরি তৎপর এবং সব সংস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, তাই কোনো সমস্যা নেই। আমরা আশা করছি দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে আমরা একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারব এবং সাধারণ মানুষ যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা মোকাবেলা করতে পারব।’
ভুটানের একটি সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুনোখার গুমা গেওগ-এর অধীন দোছুখা-জোমলিংথাং-রিৎসা চিওগে সেচের সমস্যা সমাধানের জন্য এ বছরের শুরুর দিকে একটি সৌর সেচ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছিল। মো ছু নদীর হড়পা বানে ব্যবস্থাটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন স্থানীয় নেতার মতে, সিস্টেমটি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পুরো পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া আকস্মিক বন্যায় ভেসে আসা ধ্বংসাবশেষ ও কাদায় জোমলিংথাং এলাকায় পুনোখা-গাসা মহাসড়কের একটি অংশ ঢেকে গেছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের বন্যা পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ অধিদপ্তর পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং আসামের ধুবড়ি জেলার জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই দুই জেলায় পানির স্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে কেন্দ্র। বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ‘পুনাৎসাংছু (ভারতে সংকোষ নদী)-এর উচ্চ অববাহিকায় হড়পা বানের খবরের কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং আসামের ধুবড়ি জেলায় পানির স্তর হঠাৎ বাড়তে পারে। বন্যার পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হয়ে ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে সীমান্তে পৌঁছাবে এবং পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও আসামের ধুবড়ি জেলাকে প্রভাবিত করতে পারে।’
এই দুই জেলার স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ৩০ অক্টোবর ২০২৬







