কারাগারে ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা চলছে: সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ছেলে সুলাইমানের

ইসলামাবাদ, ২৯ অক্টোবর – দীর্ঘ কারাবাস, নির্যাতন ও সুচিকিৎসার অভাবে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বড় ছেলে সুলাইমান খান। মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মতোই তার বাবাকে নিঃশব্দে হত্যার চেষ্টা চলছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
কারাবন্দী পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জোরালো বার্তায় ইমরান খানের ছেলে সুলাইমান খান সরাসরি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তার বাবাকে দীর্ঘদিন আটকে রাখার ও হয়রানির অভিযোগ এনেছেন।
সুলাইমান খানের বিস্ফোরক অভিযোগসমূহ:
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা: গত আগস্ট মাসের পর থেকে পরিবার বা আইনজীবীদের কেউ-ই ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি এবং তার কোনো খোঁজও পাওয়া যায়নি।
চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ: সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইমরান খানকে বেসরকারি শিফা হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। বরং যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে তাকে গুরুতর অসুস্থ করে তোলা হয়েছে।
মুরসির মতো পরিণতির আশঙ্কা: মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মতোই কারাগারে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার জন্য ইমরান খানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সুলাইমান।
সরাসরি হুঁশিয়ারি: বাবার কিছু হলে তার সম্পূর্ণ দায় বর্তমান সামরিক ও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী বিশেষ করে সেনাপ্রধানকে নিতে হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক পটভূমি
৭৪ বছর বয়স্ক পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বর্তমানে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একশরও বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও শুরু থেকেই তিনি এসব মামলাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
এদিকে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করার বিষয়ে সুলাইমান বলেন, গত আগস্টে আদালত ইমরান খানকে পরিবার ও আইনজীবীদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি এবং হাসপাতালে পরীক্ষার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এর আগে এপিকে দেওয়া এক লিখিত জবাবে দাবি করেছিল যে, সরকারকে চাপে ফেলতে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তিনি কারাগারে বন্দি আছেন।
পরিবারের ওপর চাপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
ইমরানের মুক্তির দাবিতে বিশ্বজুড়ে আন্দোলন ও প্রচার চালানোর কারণে তার পরিবারের ওপরও সরকারি দমনপীড়ন বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বরে পাঞ্জাব অর্ডিন্যান্সের আওতায় ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়, যাদের আটকাধীন মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সুলাইমান ও তার ভাই কাসিম খানকে পাকিস্তানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কারাগারে বন্দি থেকেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের অটুট জনপ্রিয়তার প্রমাণ মিলছে তার মুক্তির দাবিতে সাধারণ মানুষের লাগাতার রাজপথে নেমে আসার মধ্য দিয়ে। চলতি মাসের শুরুতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ ও বিশাল সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থক অংশ নেন। এর মাঝেই গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে পিটিআইয়ের প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করেছে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি প্রশাসন। পিটিআই একে ‘জরুরি অবস্থার ছদ্মবেশে সামরিক অভ্যুত্থান’ বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, ইমরান খানের জনপ্রিয় আন্দোলনকে দমন করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
এনএন/ ২৯ অক্টোবর ২০২৬







