দক্ষিণ এশিয়া

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে ভারতের গোলাবারুদ রপ্তানি বেড়েছে কয়েক গুণ

ভারতের গোলাবারুদ

দিল্লি,৩১ অক্টোবর-রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলোতে ভারতের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর চার বছরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৮৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করেছে ভারত। এর আগের চার বছরে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের এই অগ্রগতির পেছনে ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর নিজেদের সামরিক মজুত বাড়ানো এবং ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য ইউরোপের দেশগুলো অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ বাড়িয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লুমবার্গের প্রকাশিত বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিফেন্স নিউজ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।

পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে বড় সরবরাহকারী ভারত

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ১৩টি দেশে গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পরই ভারতের অবস্থান। প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানির এই সম্প্রসারণ ইউরোপের অস্ত্রের বাজারে ভারতের উপস্থিতি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলো সামরিক প্রস্তুতি জোরদারে মনোযোগ দেয়।

এর ফলে কামানের গোলা ও অন্যান্য গোলাবারুদের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি নিজেদের সামরিক মজুত আবার পূরণ করা এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনও দেখা দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরও গতি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে ভারতের রেকর্ড

ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানিও বেড়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি বেড়ে রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি।

বর্তমানে ৮০টির বেশি দেশে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করে ভারত। দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এই সম্প্রসারণের সম্পর্ক রয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই বাজারে ভারতের অবস্থান কতটা শক্ত হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা ধরে রাখার ওপর।

এস এম/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language