উত্তর আমেরিকা

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি, তবে আস্থাহীনতা বজায় রাখছেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ০১ নভেম্বর – চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছে।

তবে একই সাথে ইরানের অতীত রেকর্ডের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি নতুন করে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে আয়োজিত এক হ্যালোইন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কথা বলেন।

আলোচনার ধীরগতি ও আস্থার সংকট

কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ওয়াশিংটন কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে তাড়াহুড়ো করছে না।

ধীরগতির অবস্থান: ট্রাম্প বলেন, “আমরা খুব বেশি তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই। আলোচনা চলছে এবং তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে চায়। তবে দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত তারা চুক্তিতে আসে কি না।”

আস্থাহীনতার অভিযোগ: ইরানের ওপর আমেরিকার বিশ্বাসযোগ্যতার ঘাটতি তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, “তারা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। দেখা যায় তারা চুক্তি করে, আবার কিছু দিন পরই সেখান থেকে সরে আসে।”

সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি ও নতুন হামলার হুঁশিয়ারি

বক্তব্যকালে কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানে ইতোমধ্যে ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সার্বিক উৎপাদন সক্ষমতা কার্যত গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বিশেষ করে ইরানের বিতর্কিত ‘পিক অ্যান্ড অ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain)-এ অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনার কথা উল্লেখ করেন, যেটিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রধান ঘাঁটি বলে দাবি করে আসছে। সেখানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাইলে খুব দ্রুতই (মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে) এসব মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারি।”

সামরিক হামলার প্রশ্নকে ‘বোকামি’ আখ্যা

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক যখন প্রশ্ন করেন—ইরানের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক হামলার নির্দেশ তিনি দেবেন কি না, তখন ট্রাম্প সেই প্রশ্নটিকেই ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে উড়িয়ে দেন।

ট্রাম্প রসিকতা ও ক্ষোভের সুরে জবাব দেন, “ধরে নিন, আমি যদি তেমন কোনো সামরিক নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও থাকি, তাহলে কি আগেভাগেই আপনাদের কাছে তা ফাঁস করব? আমি তো কখনোই তা জনসম্মুখে বলব না।”

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন সূত্রে এই কূটনৈতিক টানাটানি ও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের চিত্র উঠে এসেছে। একদিকে কূটনীতির টেবিলে আলোচনার পথ খোলা রাখা, অন্যদিকে পারমাণবিক কেন্দ্রে সরাসরি আক্রমণের তোপ দাগা—ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে তৈরি করেছে চরম অনিশ্চয়তা।

এনএন/ ০১ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language