উত্তর আমেরিকা

বিশ্ববাজারে মহা-সংকটের আশঙ্কা: জ্বালানি ও খাদ্যের দামে বড় লাফের পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

ওয়াশিংটন, ৩০ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, দীর্ঘায়িত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব—এই ত্রিমুখী ধাক্কায় অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে বিশ্ববাজার। আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নি সংস্থা বিশ্বব্যাংক তাদের সর্বশেষ প্রকাশিত ‘অক্টোবর ২০২৬: কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যমূল্য গড়ে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেল ও ধাতুর দাম

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল গড়ে ৬৯ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় আঘাত হানায় এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রাশিয়ার পরিশোধিত তেল রপ্তানিতে বাধা তৈরি হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

শুধু জ্বালানিই নয়, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও টিনের মতো ধাতু ও খনিজের গড় দামও চলতি বছর ২৪.৫ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে মূল্যবান ধাতুর (স্বর্ণ ও রূপা) দাম এ বছর প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ার কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

পরপর দুই বছর বাড়বে খাদ্যের দাম, তীব্র হতে পারে মূল্যস্ফীতি

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক এল নিনো আবহাওয়ার প্রভাব, সারের উচ্চমূল্য এবং শস্য পরিবহনে বাধার কারণে চলতি বছর খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশ বাড়ার পর আগামী বছর (২০২৭) তা আরও ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। ফলে দুই বছর মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা যদি আরও বাড়ে, তবে ২০২৭ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। এমন খারাপ পরিস্থিতিতে খাদ্যের দাম ২০২২ সালের রেকর্ড স্তর ছাড়িয়ে গিয়ে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ৫০-৬০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল

পণ্যমূল্য বৃদ্ধির এই অভিঘাত মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার জন্য নিজেদের অর্থায়ন ক্ষমতার চিত্র তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি কার্যকর পরিকল্পনা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এনএন/ ৩০ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language