আইন-আদালত

শাপলা চত্বর গণহত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

ঢাকা, ০১ নভেম্বর – রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের (চার্জ গঠন) শুনানি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

শুনানির প্রেক্ষাপট ও আইনি অগ্রগতি

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আজ রাষ্ট্রপক্ষ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবে। এর আগে গত ৭ অক্টোবর শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি পুনর্ধার্য করেন।

মামলার আইনি প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ:

অভিযোগ আমলে নেওয়া: গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা চার্জশিট ও অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও এনইআর দাখিল: শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন পলাতক আসামির স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় কোনো হদিস না মেলায় গত ৩ সেপ্টেম্বর দু’টি জাতীয় দৈনিকে আত্মসমর্পণের নোটিশ প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (NER) দাখিলের পর ১৬ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ না করায় ৩০ জনকে অফিশিয়ালি ‘পলাতক’ ঘোষণা করা হয়।

স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ: পলাতক আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

যেসব মারাত্মক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে

ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা চার্জশিটে মূলত দুটি প্রধান অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেওয়া হয়েছে:

প্রথম অভিযোগ (৫ মে, ঢাকা): ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানের নামে ৩২ জন নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যার ঘটনা।

দ্বিতীয় অভিযোগ (৬ মে, নারায়ণগঞ্জ ও অন্যান্য): ঘটনার পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও নির্যাতন।

মামলার আসামিদের তালিকা: কার কী ভূমিকা?

এই আলোচিত মামলায় মোট ৪১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন পলাতক।

কারাগারে থাকা ১১ আসামি:

সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।

পলাতক ৩০ আসামি (প্রধান প্রধান নাম):

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ড. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ ও বিপ্লব কুমার সরকারসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা।

শাপলা চত্বরের ঘটনার এক দশক পর শুরু হওয়া এই চাঞ্চল্যকর বিচার প্রক্রিয়ার দিকে এখন তাকিয়ে পুরো দেশ। আজ চার্জ গঠনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল কী আদেশ দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এনএন/ ০১ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language