রাজধানীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন: আজ থেকেই শুরু কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল

ঢাকা, ০১ নভেম্বর – রাজধানী ঢাকার সড়ক পরিবহনে বছরের পর বছর ধরে চলা বিশৃঙ্খলা, যত্রতত্র থামার প্রবণতা এবং বাসের মধ্যকার বিপজ্জনক প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে আজ রোববার (১ নভেম্বর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল কার্যক্রম। বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এই নতুন উদ্যোগের শুভ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সূত্র জানিয়েছে, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে শৃঙ্খলা ফেরানোর এই ইতিবাচক উদ্যোগটি বাস্তবে গড়াচ্ছে একঝাঁক বিতর্ক ও পরিবহন মালিকদের অসন্তোষকে সঙ্গে নিয়ে।
কেন এই উদ্যোগ এবং সরকারের মহাপরিকল্পনা
ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহনকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা রয়েছে।
৩২টি নতুন করিডোর: বিদ্যমান অগোছালো বাস নেটওয়ার্ককে পুনর্গঠন করে মোট ৩২টি প্রধান করিডোরে ভাগ করা হবে।
প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা: প্রতিটি রুটে থাকবে নির্দিষ্ট বাসস্টপ, টিকিট ক্রয়ের জন্য ইলেকট্রনিক টিকিটিং ব্যবস্থা এবং তদারকির জন্য জিপিএস ট্র্যাকিং।
যৌথ তদারকি: উদ্যোগটি বাস্তবে রূপ দিতে ডিটিসিএ-র সাথে মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বিআরটিএ (BRTA) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (DMP)।
রুটে রুটে বাস বিন্যাস: কোন রুটে কত বাস?
প্রাথমিক পর্যায়ে রাজধানীর ৬টি নির্বাচিত রুটে মোট ৮১৬টি বাস (৭৯৬টি নন-এসি এবং ২০টি এসি) নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্কুলার রুটেও থাকছে বাসের উপস্থিতি।
| রুট / এলাকা | পরিচালনকারী কোম্পানি | বাসের সংখ্যা ও ধরণ |
- শিববাড়ী – ঢাকেশ্বরী মন্দির | ভিআইপি পরিবহন | ২৫৩টি (নন-এসি) |
- মিরপুর চিড়িয়াখানা – কেরানীগঞ্জ | চিড়িয়াখানা সিটি বাস | ১৩৩টি (নন-এসি) |
- ঘাটারচর – ডেমরা | রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ | ৭০টি (নন-এসি) |
- ঘাটারচর – কাঁচপুর | ফোর স্টার বাস লাইন | ১৫০টি (নন-এসি) |
- ঘাটারচর – ধউর | পিএনপি সিটি সার্ভিস | ১৯০টি (নন-এসি) |
- টঙ্গী – ঢাকেশ্বরী মন্দির | ঢাকা চাকা | ২০টি (এসি বাস) |
- ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা | সার্কুলার রুট | ৬০টি বাস |
শুরুর আগেই অসন্তোষ: রুট ও ফিটনেস জটিলতা
উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও মাঠপর্যায়ে এটি বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘদিনের পুরনো পরিবহন কোম্পানিগুলোর ক্ষোভ।
নতুন নিয়মে প্রতিটি নির্ধারিত রুটে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকেই বাস চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই বিপাকে পড়েছেন বহু পুরনো ব্যবসায়ী। যেমন—বিগত ৩৬ বছর ধরে ফার্মগেট রুটে নিয়মিত চলাচলকারী রজনীগন্ধা পরিবহনকে দেওয়া হয়েছে কাঁচপুর রুট। একইভাবে প্রজাপতি ও পরিস্থানসহ বেশ কয়েকটি নামি কোম্পানি রুট পুনর্বিবেচনার জন্য বাস মালিক সমিতির মাধ্যমে ডিটিসিএর কাছে আবেদন জানিয়েছে।
রুট বরাদ্দের পাশাপাশি অনেক বাসের ফিটনেস না থাকা এবং সরকারের নির্ধারিত রঙের মান রক্ষা না করা নিয়েও নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তবে ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, “মালিকদের সমস্যাগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। অসন্তোষের কারণে প্রথম দিন হয়তো দু-একটি কোম্পানি পুরোপুরি যুক্ত হতে পারবে না, তবে মূল কার্যক্রম নির্ধারিত সময়েই গড়াচ্ছে।”
এনএন/ ০১ নভেম্বর, ২০২৬







