জাতীয়

গণভোটের রায় না মানলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হবেন: সরকারের প্রতি জামায়াত আমিরের কড়া হুঁশিয়ারি

ঝিনাইদহ, ৩১ অক্টোবর – বর্তমান সরকার জনগণের গণভোটের রায় ও অধিকারকে অপমান করছে অভিযোগ করে তাদের অবিলম্বে ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। অন্যথায় দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে লংমার্চ সোজা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের শহীদ মিনার চত্বর এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের লং মার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের বিরুদ্ধে জামায়াত আমিরের গুরুতর অভিযোগ

পথসভায় উপস্থিত জনসমুদ্রে ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন:

ভোট ও গণরায় অবমাননা: “আপনাদের অপমান করেছে বর্তমান সরকার। ফেব্রুয়ারিতে আপনারা দুটি ভোট দিয়েছিলেন। একটি ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। দ্বিতীয় আরেকটি ভোট আপনারা দিয়েছিলেন যেখানে বিএনপি এবং জামায়াত আমরা সবাই বলেছিলাম ‘হা’ বলুন। সেখানে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হা’তে ভোট দিয়েছে। কিন্তু মানুষের সেই রায়কে তারা অপমান করেছে।”

৭ দফা বনাম ১ দফা: সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি সাত দফা মেনে নেন, তাহলে এক দফার পাথর চাপবে না। কিন্তু এটা যদি তারা ভালো ভালোই না মানে, তাহলে এক দফার পাথরের নিচে পৃষ্ঠ হয়ে যাবেন।”

ঢাকার দিকে আহ্বানের হুঁশিয়ারি: তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জনগণের গণভোটের রায় না মেনে জেদ ধরে বসে থাকে, তবে ঝিনাইদহ থেকে নেতাকর্মীদের সরাসরি ঢাকায় আসার আহ্বান জানানো হবে।

এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদের বক্তব্য

লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশকে একটি একদলীয় ও বাকশালের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লংমার্চের পরবর্তী গন্তব্য

ঝিনাইদহের এই সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পথসভা শেষে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের বিশাল বহর রাত ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। জামায়াত নেতারা জানান, তাদের এই লংমার্চ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে দেশের বিভিন্ন জনপদ অতিক্রম করে জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।

এনএন/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language