‘আমি ফুললি স্ট্রং!’ আদালত চত্বরে দীপের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর – বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সাউরিকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বিরুদ্ধে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তার দীপকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত চত্বরে গণমাধ্যমের ক্যামেরা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে দীপের একটি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
‘আমি ফুললি স্ট্রং’: আদালতের পথে দীপের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য
শনিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে হলুদ টি-শার্ট, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, হেলমেট পরিহিত এবং হাতে হাতকড়া পরা অবস্থায় দীপকে সিএমএম আদালতে তোলা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বাইরে অপেক্ষমাণ তার স্বজনরা তাকে চিৎকার করে বলেন, ‘স্ট্রং থাকো। স্ট্রং, স্ট্রং।’ ঠিক তখন আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে দীপ উত্তর দেন—‘আমি ফুললি স্ট্রং।’ এরপর আর কোনো কথা না বলেই তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কাঠগড়ায় পুরো সময়জুড়ে তাকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
রিমান্ড মঞ্জুর ও মামলার প্রেক্ষাপট
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের ফ্ল্যাট থেকে জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাইরে যান সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাত মরদেহ ভাসার খবর পায় পুলিশ। পরে নিহতের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করেছে যে, সাউরি তার সিনিয়র ভাই ছিলেন এবং ঘটনার দিন তাকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মাজার বস্তি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
রিমান্ড চাওয়ার পেছনের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ
পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে রিমান্ড চাওয়ার পেছনে যে ৫টি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—
১. হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য ও মোটিভ (কারণ) উদ্ঘাটন করা।
২. এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তার করা।
৩. হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও মামলার প্রয়োজনীয় অন্য আলামত উদ্ধার করা।
৪. নিহত সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা।
৫. হত্যাকাণ্ডের মূল স্থান বা এটি কোথায় সংঘটিত হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা।
নিহত সাউরির বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে দীপের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে তাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। চারদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ ও অন্যান্য রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এনএন/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬







