এইচএসসি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়: কেন ইংরেজি আর আইসিটিতেই সবচেয়ে বেশি ধাক্কা?

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর – একই বছরে ২১ বছরের রেকর্ড ভেঙে তছনছ হয়ে গেল দেশের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ফলাফল! চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে পাসের সর্বনিম্ন ধসের পাশাপাশি সামনে এলো আরও এক দুশ্চিন্তার চিত্র—ইংরেজী আর আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ের বিশাল অকৃতকার্যতা। শুধু এ দুটি বিষয়েই ফেল করেছেন প্রায় পৌনে চার লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এক অভূতপূর্ব বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭ ৯৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিলেন। যার মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, আর অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। অর্থাৎ গড় পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে, যা ২০০৪ সালের (৪৭.৭৪%) পর গত ২১ বছরে দেশের সর্বনিম্ন সাফল্য।
ইংরেজিতে সর্বোচ্চ ধাক্কা, পেছনে আইসিটি
চলতি বছরের এই অস্বাভাবিক ফলাফলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়টি।
- ইংরেজিতে ফেল: ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী।
- আইসিটিতে ফেল: ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন।
- দুই বিষয়ে মোট অকৃতকার্য: ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নপত্রের মান, ধারাবাহিক মূল্যায়নের অভাব এবং গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চরম অসমতাই ইংরেজিতে এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। অন্যদিকে, আইসিটিতে ব্যবহারিক ক্লাসের অভাব এবং কেবল তাত্ত্বিক মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার কারণে বহু শিক্ষার্থী আটকে গেছেন এই আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ের বৈতরণীতে।
শিক্ষ মন্ত্রীর ঘোষণা: দ্রুতই মিলছে ফেল করা বিষয়ের বিশেষ পরীক্ষা
ফলাফল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, শিক্ষা বোর্ডগুলো দ্রুতই ফেল করা বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, কোনো পরীক্ষার্থী যে কটি বিষয়ে ফেল করেছেন, তাকে শুধু সেই বিষয়গুলোর জন্যই পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।
এইচএসসির এই ফলাফল দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়াল। ইংরেজি ভীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়গুলোতে দক্ষ শিক্ষক এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে।
এনএন/ ৩১ অক্টোবর, ২০২৬







