৩ দিনের রিমান্ড শেষে আনিসুল হক ও সাবেক আইজিপি মামুনকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর – রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলন চলাকালে যুবক জিহাদ হোসেনকে গুলি করে হত্যার মামলায় টানা তিন দিনের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো উত্তর বিভাগের পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন এই দুই প্রভাবশালী আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করেন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানান। শুনানি শেষে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আইনি জটিলতা ও বিলম্বিত রিমান্ডের নেপথ্য কারণ
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন এবং আদালত সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার রিমান্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু আইনি ধাপ ও সময় পার করতে হয়েছে:
রিমান্ডের মূল মঞ্জুরি: গত বছরের (২০২৫ সাল) ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত আনিসুল হক ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
যে কারণে বিল বিলম্বিত রিমান্ড কার্যকর: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা চলমান থাকায় এবং অন্য মামলায় তারা রিমান্ডে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে এই মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী আইনি আবেদন ও রিমান্ড গ্রহণ: গত ১৪ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন আদালতে রিমান্ড কার্যকরের বিশেষ আবেদন জানান। আদালত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড কার্যকরের নির্দেশ দিলে গত রোববার তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় সিআইডি।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মামলার বিবরণী
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে গত ১৯ জুলাই রাজধানীর শনিরআখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলনের অংশ হিসেবে অবস্থান নিয়েছিলেন মো. জিহাদ হোসেন। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে তিনি মর্মান্তিকভাবে গুলিবিদ্ধ হন। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত জিহাদের বাবা নুরুল আমিন মোল্লা। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ: জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক প্রতিটি হত্যা মামলায় একের পর এক প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী ও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনা ও দায়বদ্ধতা উন্মোচনে অত্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে।
এনএন/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬







