অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর দিন শেষ: বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন যুগান্তকারী ঘোষণা প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর – দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে দালাল ও প্রতারকদের কবল থেকে মুক্ত করতে এবং এর মান বাড়াতে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ এখন আর গতানুগতিক ধারায় কোনো অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠাবে না। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এখন থেকে শতভাগ দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-কে আনুষ্ঠানিকভাবে রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রধান ৫টি দিক ও কঠোর বার্তা:
১. প্রধানমন্ত্রীর ১ কোটি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন:
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে ১ কোটি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর যে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য রয়েছে, এই উদ্যোগ তা বাস্তবায়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে।
২. দক্ষতার ওপর সর্বোচ্চ জোর:
বাংলাদেশ যে এখন বিশ্বমানের দক্ষ কর্মী তৈরি করতে সক্ষম, তা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রমাণ করতে হবে। অদক্ষ শ্রমিক রপ্তানির যুগ চিরতরে শেষ করতে চায় সরকার।
৩. অবৈধ অভিবাসন ও হুন্ডির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স:
অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়া এবং হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গুটিকয়েক মানুষের অপকর্মের কারণে যেন পুরো দেশের সুনাম নষ্ট না হয়। প্রবাসীদের অবশ্যই গন্তব্য দেশের আইন কানুন মেনে চলতে হবে।
৪. প্রতারকদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি:
দেশের ভেতরে বা বাইরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণায় লিপ্ত চক্রগুলোর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, অবিলম্বে এসব অপকর্ম বন্ধ না করলে তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
৫. রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতি স্বচ্ছতার তাগিদ:
বৈধ ও সৎ পথে ব্যবসা পরিচালনার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, ব্যক্তিগত স্বার্থে যারা অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেবে, তাদের সরাসরি ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের অভিমত: মন্ত্রীর এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপ দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের মর্যাদা ও সম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এনএন/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬







