মধ্যপ্রাচ্য

নেসেট নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে বিধ্বস্ত গাজাবাসী—’কম ক্ষতিকর’ কাউকে চান ফিলিস্তিনিরা

জেরুজালেম, ২৮ অক্টোবর – দখলদার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এর নির্বাচনের ওপর তীব্র নজর রাখছেন ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা নজিরবিহীন গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতের মূল কারিগর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পতন দেখতে চান তারা। যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু ক্ষমতাচ্যুত হোক—মনেপ্রাণে এটিই এখন গাজাবাসীর সর্বপ্রধান প্রার্থনা।

তবে নেতানিয়াহুর বিকল্প হিসেবে যার নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোত। নেতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আইজেনকোত ক্ষমতায় এলেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না—তা ভালো করেই জানেন নির্যাতিত গাজাবাসী। তবুও অন্তত ‘কম ক্ষতিকর’ কেউ ক্ষমতায় আসুক, এই সামান্য আশাটুকুই তারা আঁকড়ে ধরেছেন।

কেন আইজেনকোতকে নিয়ে কিছুটা আশাবাদী গাজাবাসী?

‘কম শয়তান’ বেছে নেওয়ার আকুতি:

খান ইউনিসের বাসিন্দা আয়মান আহমেদ বিশ্বখ্যাত বার্তাসংস্থা এপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিনিদের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেছেন, “গাজা নিয়ে তাদের (ইসরায়েলি রাজনীতিকদের) সবার নীতিই অত্যন্ত রূঢ়। তবে আমরা দুই শয়তানের মধ্যে অন্তত কম ক্ষতিকর শয়তানকেই বেছে নিতে চাই।”

ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির সমর্থন:

ফিলিস্তিনিদের একাংশের মতে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া গাজা শান্তি চুক্তিকে সমর্থন করেন।

চুক্তির মূল শর্ত ও নেতানিয়াহুর বাধা:

ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবিত চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে—হামাস নিজেদের নিরস্ত্র করবে, গাজায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হবে এবং বিনিময়ে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। ফলে সেখানে পুনর্গঠনের কাজ শুরু হতে পারে। নেতানিয়াহু মুখে রাজি হলেও মূলত নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এই চুক্তি কার্যকরে ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করে গেছেন।

সংশয় কাটছে না সাধারণ ফিলিস্তিনিদের

আইজেনকোত ক্ষমতায় এলে যে গাজার ভাগ্যে রাতারাতি নাটকীয় পরিবর্তন আসবে না, তা মনে করিয়ে দিয়েছেন মোহাম্মদ আবেদ নামের আরেক গাজাবাসী। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আইজেনকোতের জয়ে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ গাজা ও ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার ক্ষেত্রে তাদের মূল নীতি একই। দিনশেষে একই শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”

বাস্তবতার মুখোমুখি: নেতানিয়াহুর পতন হয়তো গাজাবাসীকে সাময়িক মানসিক স্বস্তি দেবে, তবে স্থায়ী শান্তি ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে ইসরায়েলি আগ্রাসী নীতির পরিবর্তন হবে কি না—তা সময়ই বলে দেবে।

এনএন/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language