নেত্রকোনা

নেত্রকোনায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলা: ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ পাওয়ায় চার্জশিট দাখিল

নেত্রকোনা, ২৭ আগস্ট – নেত্রকোনার মদনে একটি কওমি মাদ্রাসার ১২ বছরের শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় চার মাস পর আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনা আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মদন থানার উপপরিদর্শক আক্তারুজ্জামান।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন করীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমানউল্লাহর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে এবং ডিএনএ প্রতিবেদনে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে আমানউল্লাহর ডিএনএ ৯৯.৯৯৯ শতাংশ মিলে গেছে।

মামলার বিবরণে জানা যায় গত বছরের নভেম্বর মাসে মাদ্রাসার পরিচালক আমানউল্লাহ মাহমুদ সাগর ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি গোপন রাখার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হলেও পরে শিশুর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের নজরে আসে। গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুর মা বাদী হয়ে আমানউল্লাহ ও তার ভাই মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর ৬ মে র‍্যাব ১৪ এর সহায়তায় অভিযুক্ত আমানউল্লাহকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে সিআইডির মাধ্যমে অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

নিরাপত্তাজনিত কারণে অন্তঃসত্ত্বা শিশুকে সিলেটের একটি সেফহোমে রাখা হয়েছিল। গত ২ জুলাই সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। ২৮ জুলাই নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্টে ধর্ষণের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়। পুলিশ আজ এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছে যেখানে চারজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।

এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language