নেত্রকোনা সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা: টহলে গ্রামবাসী

নেত্রকোনা, ৯ জুন – দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নেত্রকোনার সীমান্ত এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করে দিন-রাত টহল জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির এই বিশেষ টহল কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরাও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের ঘটনা সামনে আসার পর নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষ করে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় এই সতর্কতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিজিবি বর্তমানে পুশ-ইন প্রতিরোধকে সীমান্ত নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে সীমান্ত পাহারায় বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
দেশের স্বার্থে গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাতের বেলায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করছেন। একই সঙ্গে মানবপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধেও বাড়তি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বিজিবি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বিজয়পুর সীমান্ত দিয়ে তিন ধাপে নারী, শিশু, তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য এবং রোহিঙ্গাসহ মোট ৭৬ জনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।
সম্প্রতি আবারও পুশ-ইন ইস্যুতে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু করেছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিজেদের এলাকার নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখন সার্বক্ষণিক পাহারা চলছে।
বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. নুরুল ইসলাম জানান, জনবল বৃদ্ধি এবং টহল জোরদারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহযোগিতা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, নেত্রকোনার ৯২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় ১০টি বিওপি এবং সংলগ্ন ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জের আরও ৫টি বিওপিসহ মোট ১৫টি ক্যাম্পের আওতায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তে এখন পর্যন্ত কোনো পুশ-ইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হয়নি এবং সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ৯ জুন ২০২৬









