এর চেয়ে আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন! এজলাসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন সুব্রত বাইনের মেয়ে বিথী

ঢাকা, ২৩ মে – “আমার একটা ছোট মেয়ে আছে। আমাকে বারবার নতুন নতুন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। শুধু বাবার (শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন) পরিচয়ের কারণেই কি আমাকে এভাবে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে? এভাবে তিলে তিলে মারার চেয়ে আমাকে একবারে ক্রসফায়ারে দিয়ে মেরে ফেলেন!”
আজ শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নতুন একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে এভাবেই তীব্র ক্ষোভ ও আকুতি জানান শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিন বিথী। তবে তার এই আবেগঘন বক্তব্য ও আইনজীবীদের আপত্তির পরও আদালত পুলিশের করা আবেদন মঞ্জুর করে তাকে বাড্ডা থানার মামলায় নতুন করে গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে নিজের ওপর হওয়া হয়রানির বিবরণ তুলে ধরেন বিথী। তিনি দাবি করেন, তাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। আদালতের সামনে তিনি বলেন, “আমি আগে একটি মামলায় আইনি লড়াই করে জামিন পেয়েছিলাম। ভাবছিলাম এবার হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরব, মেয়ের কাছে যাব। কিন্তু জেল থেকে বের হওয়ার আগেই আবার নতুন মামলা দেওয়া হলো। কেন বারবার আমার সাথে এমন করা হচ্ছে, আমি বুঝতে পারছি না।”
নিজের গ্রেফতারের মুহূর্তটি স্মরণ করে বিথী আরও জানান, তিনি কোনো অপরাধ করে গ্রেফতার হননি। কারাগারে বন্দী তার বাবাকে দেখতে গেলে সেখান থেকেই পুলিশ তাকে আটক করে। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তিনি ঢাকায় ছিলেনই না, বরং পার্টটাইম চাকরির সুবাদে সিলেটে অবস্থান করছিলেন।
মামলার এজাহার ও তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাজধানীর প্রগতি সরণি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে একটি বিশাল বিজয় মিছিল বের হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়, সেই মিছিলে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের পৈশাচিক আঘাত ও গুলিতে সোহেলী তামান্না নামের এক নারী গুরুতর আহত হন। হামলায় তার বাম হাতটি চিরতরে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই ঘটনার পর তামান্না বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলাতেই গত ১৫ মে বিথীকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আজ আদালতে বলেন, ঘটনার সাথে বিথীর সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মেলায় তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, একের পর এক মামলায় জামিন পেলেও নতুন এই বাড্ডা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ হওয়ায় আপাতত কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না খাদিজা ইয়াসমিন বিথী। কারামুক্ত হতে হলে তাকে এই নতুন মামলায় নতুন করে জামিনের আবেদন করতে হবে।
এনএন/ ২৩ মে ২০২৬









