জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা, সভাপতি পদে এবাদ চৌধুরীর জয়

টরেন্টো, ২৩ মে-দীর্ঘ অপেক্ষা, উত্তেজনা, নানা আলোচনা এবং শেষ মুহূর্তের বিতর্কের পর অবশেষে টরন্টোর জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তিন দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ এবং কয়েক দফা ভোট গণনা ঘিরে এবারের নির্বাচন কমিউনিটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনের একটিতে পরিণত হয়। ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, কোনো প্যানেল পূর্ণাঙ্গভাবে জয়লাভ করতে পারেনি।
বহুল আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এ নির্বাচনে সভাপতি পদে ১২৬ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন এবাদ চৌধুরী। তিনি সর্বমোট পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুব চৌধুরী রনি পেয়েছেন ১ হাজার ৭০৮ ভোট। অপর প্রার্থী ইন্তিখাব চৌধুরী তুহিন পেয়েছেন ৮৪৮ ভোট।
নির্বাচনকে ঘিরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও ভোট গণনা, ফলাফল ঘোষণা, ব্যালট বাক্স সংরক্ষণ এবং পরবর্তী গণনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শেষ দিনের ভোট গণনার জন্য লকার থেকে ব্যালট বাক্স আনতে গিয়ে কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়। কমিশন সূত্রের দাবি, এবাদ চৌধুরী ও তুহিন চৌধুরী এ পর্যায়ে প্রত্যাশিত সহযোগিতা করেননি। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় লকার ভেঙে ব্যালট বাক্স আনা হয় এবং ভোট গণনা শুরু করা হয়।
অবশেষে রাত ১২টার কিছু পর বিডি ফিউশন অডিটোরিয়ামে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করে। এ সময় কমিউনিটির সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং টেলিভিশন, ইউটিউব ও ফেসবুকে সরাসরি অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করেন।

ঘটনাবহুল এ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে একদিন আগে এবাদ চৌধুরী একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। স্থানীয় রেডহট তন্দুরি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনকালীন সময়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে শুক্রবার রাত ৯টায় ইন্তিখাব চৌধুরী তুহিনের প্যানেলও একই স্থানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে কমিউনিটির ভেতরে আলোচনা, সমালোচনা এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এছাড়া কমিউনিটির ভেতরে কিছু মহলকে ঘিরে এমন অভিযোগও ওঠে যে, তারা নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করে তুলতে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে ভোট গণনা সম্পন্ন করে।
ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফল:
সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন এবাদ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১,৮৩৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুব চৌধুরী রনি পেয়েছেন ১,৭০৮ ভোট। ইন্তিখাব চৌধুরী তুহিন পেয়েছেন ৮৪৮ ভোট।
নির্বাহী সহসভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মেহেদি মারুফ। তিনি পেয়েছেন ১,৮৪৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ময়নুল ইসলাম পেয়েছেন ১,৩৮৮ ভোট। তারেক চৌধুরী তানভীর পেয়েছেন ৯৬১ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন রাসেল আহমদ। তিনি পেয়েছেন ১,৭৭৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাবুল খান পেয়েছেন ১,৪৪২ ভোট। এজাজ আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৯৭২ ভোট।
সহসভাপতি সিলেট পদে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুল কালাম। তিনি পেয়েছেন ১,৫৭১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস খান পেয়েছেন ১,৫০৪ ভোট। মেসি চৌধুরী পেয়েছেন ৯৬৫ ভোট।
সহসভাপতি মৌলভীবাজার পদে বিজয়ী হয়েছেন তাহমিনা চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১,৭০০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা রিফাত নূয়েরিন পেয়েছেন ১,৫৮৭ ভোট। আমান উল্লাহ পেয়েছেন ৭৪০ ভোট।
সহসভাপতি সুনামগঞ্জ পদে বিজয়ী হয়েছেন আমজাদ আলি। তিনি পেয়েছেন ১,৬০২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিমাদ্রি রায় পেয়েছেন ১,৪৭৫ ভোট। মোস্তাক চৌধুরী পেয়েছেন ৮৪৪ ভোট।
সহসভাপতি হবিগঞ্জ পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. জুবের আহমদ। তিনি পেয়েছেন ১,৫৬৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুমি আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১,৪৮০ ভোট। শুভ বনিক পেয়েছেন ৮০১ ভোট।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ১ পদে বিজয়ী হয়েছেন জুয়েল আহমদ। তিনি পেয়েছেন ১,৫০৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল আবেদিন পেয়েছেন ১,৩৭৬ ভোট। কানন আহমদ পেয়েছেন ১,০২৪ ভোট।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ২ পদে বিজয়ী হয়েছেন মনসুর আহমদ। তিনি পেয়েছেন ২,০৩২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দুলাল ভৌমিক পেয়েছেন ১,২৫৬ ভোট। অলিউর রহমান পেয়েছেন ৭০১ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে বিজয়ী হয়েছেন হাসান তারেক ইমাম। তিনি পেয়েছেন ১,৬৫৪ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইফতেখার আহমদ কুয়েল পেয়েছেন ১,০০৭ ভোট।
সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদে বিজয়ী হয়েছেন ইকবাল আহমদ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১,৫২০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল হাসান রনি পেয়েছেন ১,৪৪৭ ভোট। মাহবুব আহমদ সজিব পেয়েছেন ৮৪৭ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মাহদি চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১,৫০৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলি বর্দি খান সোহেল পেয়েছেন ১,৩১০ ভোট। ফাহিম আর চৌধুরী ফাহিম পেয়েছেন ১,১২৭ ভোট।
সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন নাইম চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১,৫৫২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দ খায়রুল আহসান পেয়েছেন ১,২৮০ ভোট। খালেদ আহমদ পেয়েছেন ১,০৬৪ ভোট।
দপ্তর সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন ফারুক আহমদ। তিনি পেয়েছেন ১,৫২০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুপ্তার আলী পেয়েছেন ১,২৪৪ ভোট। মাহদি হাসান সুমন পেয়েছেন ১,১২০ ভোট।
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আল আমিন। তিনি পেয়েছেন ১,৮১২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সঞ্জিব রায় পেয়েছেন ১,৩৯৯ ভোট। সুমিত রায় পেয়েছেন ৬৬৯ ভোট।
সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন লুতফুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ১,৪৮৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামিম বিশ্বাস পেয়েছেন ১,৪০৫ ভোট। আলাল আহমাদ পেয়েছেন ৯৪৫ ভোট।
যুব ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন গোলাম ইমরান সুমন। তিনি পেয়েছেন ১,৫৯৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শরিফুল রাহমান জামাল পেয়েছেন ১,২০৯ ভোট। আমিনুর রহমান রনি পেয়েছেন ১,০০১ ভোট।
ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. নাহিদ আহমদ। তিনি পেয়েছেন ১,৪৫৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাওসারুল গনি পেয়েছেন ১,২৯৯ ভোট। জাকারিয়া চৌধুরী শিপলু পেয়েছেন ১,১৯৯ ভোট।
সহ ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন তানিম ইকবাল চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১,৬৫৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোস্তাফিজুর রহমান শিপন পেয়েছেন ১,৪৪৫ ভোট। আবদুস সবুর পেয়েছেন ৮৫৬ ভোট।
ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন মাওলানা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ১,৭৪৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস সালাম পেয়েছেন ১,৬২৫ ভোট। নাহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫০৪ ভোট।
সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন জিয়াউল ইসলাম রিংকু। তিনি পেয়েছেন ১,৫৮৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিল্টন চন্দ্র দেব পেয়েছেন ১,৩৬৬ ভোট। সাবু শাহ পেয়েছেন ৯৫১ ভোট।
সহ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন পারমিতা সেন তিন্নি। তিনি পেয়েছেন ১,৬৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খন্দকার গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১,৩৮৬ ভোট। হুমায়ূন কবির পেয়েছেন ৭৩৪ ভোট।
সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন ফয়সাল আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ১,৭০৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মতিউর আলম রুমেল পেয়েছেন ১,৬৪৬ ভোট। আয়ান দেব রায় পেয়েছেন ৭৮১ ভোট।
তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আলি হোসেন। তিনি পেয়েছেন ১,৬১১ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মিজানুর রহমান মিজান পেয়েছেন ১,৫৭৮ ভোট।
মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন সৈয়দা মকসুদা বেগম রেনু। তিনি পেয়েছেন ১,৭১১ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারাহ খান পেয়েছেন ১,৩৭২ ভোট। সৈয়দা তাহমিদা পেয়েছেন ৮৯৮ ভোট।
নির্বাহী সদস্য ১ পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. মকবুল হোসেন মঞ্জু। তিনি পেয়েছেন ১,৫৪৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. তরিক আলী চৌধুরী পেয়েছেন ১,৪১৯ ভোট। কাসেম আহমদ জয় পেয়েছেন ৮১৫ ভোট।
নির্বাহী সদস্য ২ পদে বিজয়ী হয়েছেন হোসেন আহমদ লনি। তিনি পেয়েছেন ১,৬১০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আশরাফুল হেলাল পেয়েছেন ১,৩৩০ ভোট। আহমদ রিপন পেয়েছেন ৮৭৯ ভোট।
নির্বাহী সদস্য ৩ পদে বিজয়ী হয়েছেন রিজওয়ান চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১,৫৫৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. চুনু মিয়া পেয়েছেন ১,৩৬৭ ভোট। আব্দুল মতিন মিনহাজ পেয়েছেন ৮৭১ ভোট।
নির্বাহী সদস্য ৪ পদে বিজয়ী হয়েছেন আবু জাহির সাকিব। তিনি পেয়েছেন ১,৬২৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এমডি রফিক আর চৌধুরী রাফি পেয়েছেন ১,৫৬৪ ভোট।
ঘোষিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, কোনো প্যানেল পূর্ণাঙ্গভাবে জয়লাভ করতে পারেনি। তবে অধিকাংশ পদে এগিয়ে রয়েছে রনি, মারুফ ও রাসেল প্যানেলের প্রার্থীরা। এবাদ, ময়নুল ও বাবুল প্যানেলের প্রার্থীরাও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে তুহিন, তানভীর ও এজাজ প্যানেলের কোনো প্রার্থী এবার জয়ী হতে পারেননি।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯টি পদের মধ্যে রনি, মারুফ ও রাসেল প্যানেল জয় পেয়েছে ২০টি পদে। এবাদ, ময়নুল ও বাবুল প্যানেল জয় পেয়েছে ৯টি পদে।
এই ফলাফল শুধু একটি নির্বাচনী হিসাব নয়, বরং টরন্টোর সিলেটি কমিউনিটির ভেতরকার সক্রিয়তা, প্রতিযোগিতা, নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের এক বড় ছবি। নানা বিতর্ক, চাপ ও অস্বস্তির পরও শেষ পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। এখন নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো নির্বাচনী উত্তাপের বাইরে এসে সংগঠনকে ঐক্য, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নেতৃত্বের পথে এগিয়ে নেওয়া।
এস এম/ ২৩ মে ২০২৬









