অস্ট্রেলিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞায় ব্যাপক ফাঁকফোকর

ক্যানবেরা, ২৩ মে – অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে সেই আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় দেখা যাচ্ছে, কিশোর কিশোরীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সহজেই এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে।
বয়স যাচাই ব্যবস্থার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তারা আগের মতোই জনপ্রিয় সব প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসছে। ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আইনটি কার্যকর হওয়ার পর মেলবোর্নের ১৫ বছর বয়সী কিশোর র্যামসে ড্যাগলিশ ইউটিউবে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন। তবে তিনি প্রোফাইলে নিজের জন্মতারিখ পরিবর্তন করে মুহূর্তের মধ্যেই সেই বাধা কাটিয়ে ওঠেন।
র্যামসে জানান,
নিয়মটি এড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত সহজ ছিল এবং কোনো অতিরিক্ত যাচাই ছাড়াই তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন, তবে এর বাস্তবায়নকে তিনি অকার্যকর বলে অভিহিত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে যে,
১০ বছর বা তার বেশি বয়সী তরুণদের ৬১ শতাংশই জানিয়েছে নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ব্যবহারকারীরা মূলত ভুল তথ্য প্রদান, ভিপিএন ব্যবহার কিংবা পরিবারের বড় সদস্যদের সহায়তায় এই কঠোর আইন এড়িয়ে চলছে।
পার্থের ১৪ বছর বয়সী অ্যাডিসন গ্রান্ট জানান,
স্ন্যাপচ্যাট তার বয়স যাচাইয়ের জন্য সেলফি চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে বিভিন্নভাবে মুখ দেখিয়ে সহজেই অ্যাপটিকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন যে তার বয়স ১৬ বছরের বেশি। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক কিশোর কিশোরী ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের বিকল্প হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার শুরু করেছে।
কারণ হোয়াটসঅ্যাপ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিসা গিভেনের মতে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে শিশুরা বিকল্প পথ খুঁজে নিচ্ছে।
তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন যা প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাধ্য করবে। অস্ট্রেলিয়ার ই সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট সতর্ক করে বলেছেন, আইন না মানলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
তবে বাস্তব চিত্র বলছে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে। সাইবার বুলিং কিছুটা কমলেও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এস এম/ ২৩ মে ২০২৬









