অস্ট্রেলিয়ার ধনকুবেরের সচিব গ্রেফতার, ১০ লাখ ডলার জালিয়াতির অভিযোগ

ক্যানবেরা, ২৩ এপ্রিল – অস্ট্রেলিয়ার বিশিষ্ট ধনকুবের ও সমাজসেবী জুডিথ নেলসনের ব্যক্তিগত সচিব অ্যানালুইস স্পেন্সের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, তিনি প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারেরও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের জন্য বিলাসবহুল পোশাক, শিল্পকর্ম এবং দামি গহনা কিনেছেন। সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করেছে।
৫০ বছর বয়সী অ্যানালুইস স্পেন্সের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার মোট ৬৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার সকালে সিডনির এরসকিনভিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বাড়ি এবং একটি স্টোরেজ ইউনিটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডব্যাগ, গহনা এবং দামি পোশাক জব্দ করে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পেন্স ২০১৩ সাল থেকে অফিসের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত কেনাকাটা চালিয়ে আসছিলেন।
গত বছর জুডিথ নেলসনের কার্যালয়ে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের পর স্পেন্স পদত্যাগ করলে নতুন একজন নির্বাহী সহকারী হিসাবপত্র পরীক্ষা করার সময় এই অসংগতিগুলো লক্ষ্য করেন। সেখানে দেখা যায়, একটি বিলে ৫৬ হাজার ৬০০ ডলার মূল্যের একটি দুর্লভ গোলাপি স্বর্ণের রোলেক্স ঘড়ি এবং হ্যারডস থেকে ২১ হাজার ডলারের কেনাকাটার হিসাব রয়েছে।
অথচ ওই সময় নেলসন লন্ডনে উপস্থিত ছিলেন না। রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্পেন্স ভ্রমণের জন্য প্রায় ৪ লাখ ডলার এবং ফ্যাশন সামগ্রীর পেছনে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন। এছাড়া তিনি নেলসনের ১০ লাখ কোয়ান্টাস ফ্রিকোয়েন্ট ফ্লায়ার পয়েন্টও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে জুডিথ নেলসনের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি ডলার। গ্রেফতারকৃত স্পেন্সের জামিন আবেদন আদালত নামঞ্জুর করে তাকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এস এম/ ২৩ এপ্রিল ২০২৬









