কানাডা

জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম টরন্টো

নজরুল মিন্টো

টরন্টো, ০৪ মে – আজকাল টরন্টোর বাংলা টাউনে গেলে মনে হবে, আপনি বোধহয় সিলেটের কোনো অঞ্চলে এসে পড়েছেন। সিলেটি মাত-কথা আর সিলেটি হাঁকডাকে মনে হবে, আপনি যেন জিন্দাবাজার কিংবা বন্দরবাজারের কোনো মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এমনিতেই নগরীতে সিলেটিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য, তার ওপর জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এখন সেই উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান, আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। শহরের নানা প্রান্তে চলছে নির্বাচনী আলোচনা, প্রার্থীদের পরিচিতি, সমর্থকদের ব্যস্ততা এবং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রত্যাশা।

কানাডার বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সংগঠনটির এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টরন্টোর কমিউনিটি এখন কার্যত উৎসবমুখর। কমিউনিটির আড্ডা, সামাজিক অনুষ্ঠান, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক পরিসরেও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই নির্বাচন। কে কোন প্যানেলে, কার কী যোগ্যতা, কোন নেতৃত্ব সংগঠনকে এগিয়ে নিতে পারবে, ভোটগ্রহণ কীভাবে হবে, এসব প্রশ্ন ঘিরে সদস্যদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে প্রবল আগ্রহ। প্রার্থীরা জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। রাত দুইটা তিনটা পর্যন্ত রেস্টুরেন্টগুলোতে বসে চলছে কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা, খাওয়া দাওয়া, সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ভোটের নানা হিসাব নিকাশ। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও এই নির্বাচন যেন মানুষের মধ্যে সাংগঠনিক সংযোগ এবং কমিউনিটি চেতনার নতুন জাগরণ তৈরি করেছে।

আগামী ১৭ মে ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে যথাক্রমে রনি-রাসেল-মারুফ পরিষদ, এবাদ-মঈনুল-বাবলু পরিষদ ও তুহিন-তানভির-এজাজ পরিষদ। প্রতিটি প্যানেলেই রয়েছেন শিক্ষিত, পেশাদার, চিন্তাশীল ও অভিজ্ঞ প্রার্থী। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন জমে উঠেছে, তেমনি সদস্যদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার আগ্রহ।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৪০০। বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন অগ্রিম ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রথম দফার অগ্রিম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ মে ২০২৬, শুক্রবার। ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ডাউনটাউন টরন্টোর রিজেন্ট পার্ক এলাকায় অবস্থিত স্যাম’স ফুডসের কমিউনিটি হল, ১৭৫ রিভার স্ট্রিটে। এদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

দ্বিতীয় দফার অগ্রিম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ মে ২০২৬, শনিবার। এদিন ভোটগ্রহণ হবে স্কারবরোর বিডি ফিউশন রেস্টুরেন্ট অডিটোরিয়ামে। ঠিকানা ৩৪৭৮ ড্যানফোর্থ অ্যাভিনিউ। ভোটগ্রহণের সময় সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

চূড়ান্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ মে ২০২৬, রবিবার। ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে হাঙ্গেরিয়ান কানাডিয়ান কালচারাল সেন্টার, ১৪১ সানরাইজ অ্যাভিনিউ, নর্থ ইয়র্ক, অন্টারিও। ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

সকল সদস্যকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানিয়েছে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন। চ্যালেঞ্জিং এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আজফর আহমদ সৈয়দ। কমিশনের অন্যান্য সদস্য হলেন লায়েক চৌধুরী, জামশেদ মিশকাত চৌধুরী, এমাদ হোসেইন ও শঙ্কু পুরকায়স্থ।

নির্বাচনকে ঘিরে কমিউনিটির ব্যাপক আগ্রহ বিবেচনায় আগামী ১০ মে, রবিবার, দুপুর ১২টায় একটি বিশেষ ডিবেটের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেবেন তিন প্যানেলের অধিনায়ক মাহবুব চৌধুরী রনি, এবাদ চৌধুরী ও ইন্তেখাব চৌধুরী তুহিন। আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এনআরবি টিভি, নন্দন টিভি, ক্লাইমেট টিভি, প্রবাসী টিভি, চ্যানেল এস, বাংলা কাগজ, ভোরের আলো ও দেশে বিদেশে।

এছাড়া বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী গ্রুপ কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক জরিপ কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। কোন প্যানেল কতটা সমর্থন পাচ্ছে, ভোটারদের প্রত্যাশা কী, নেতৃত্ব নির্বাচনে কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে, এসব প্রশ্ন ঘিরে মাঠপর্যায়ে মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। অগ্রিম ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা থাকায় নির্বাচনকে ঘিরে এক্সিট পোল জরিপের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন অনেকে। ফলে আনুষ্ঠানিক ভোটের আগেই কমিউনিটির ভেতরে নির্বাচনী আগ্রহ, আলোচনা এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের এই নির্বাচন শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন নয়; এটি টরন্টোর বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সাংগঠনিক সচেতনতা, অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক চর্চারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কমিউনিটির প্রত্যাশা, নির্বাচনের মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব উঠে আসবে, যারা সততা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংগঠন পরিচালনা করবেন।

সুষ্ঠু আয়োজন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সকলের সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এবারের নির্বাচন অভিবাসী সমাজে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুক, এটাই এখন কমিউনিটির প্রত্যাশা।

এনএন/ ০৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language