পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই আইনে কড়াকড়ি: বিপাকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা

কলকাতা, ২১ মে – পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫০ কঠোরভাবে পালনের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তি জারির পর চরম সংকটে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা। বিশেষ করে আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সারা বছর ধরে লালন-পালন করা গবাদি পশু বিক্রি করতে না পেরে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের বিভিন্ন খামারে বর্তমানে অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিপুল সংখ্যক গরু ও মহিষ। হাওড়া জেলার সাঁকরাইল ব্লকের খামারিদের মতে, আইন কার্যকর হওয়ার বিষয়ে তারা আগে থেকে প্রস্তুত ছিলেন না। সাধারণত প্রজনন ক্ষমতা হারানো বা দুধ উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া গরুগুলো ঈদের সময়ে বিক্রি করে তারা নতুন পশু কেনেন।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গরু বিক্রি করতে না পারায় ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম অর্থ ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেক খামারি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন এবং কর্মচারীদের বেতন দেওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

খামারিরা অভিযোগ করেছেন যে,

বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং পুলিশি তৎপরতার কারণে ক্রেতারা গরু কিনে নিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রতিটি গরুর খাবার ও চিকিৎসার জন্য দৈনিক প্রায় ৩০০ রুপি খরচ করতে হচ্ছে, যা প্রান্তিক খামারিদের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ অবস্থায় আইন কিছুটা শিথিল করার জন্য তারা সরকারের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন। সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সোনালী দাস স্বীকার করেছেন যে, হঠাৎ করে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই বিপাকে পড়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে আবেদনের কথা জানান তিনি। তবে সাঁকরাইলের সমষ্টি উন্নয়ন কর্মকর্তা ড. কামরুল মুনির স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই আইনি কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বর্তমানে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।

এস এম/ ২১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language