থালাপতি থেকে মুখ্যমন্ত্রী: তামিলনাড়ুর মসনদে বিজয়ের রাজকীয় অভিষেক

চেন্নাই, ১০ মে – তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। রুপালি পর্দার গণ্ডি পেরিয়ে জনসেবার নেশায় রাজনীতিতে নামা সি. জোসেফ বিজয় এখন দক্ষিণ ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের কর্ণধার। আজ রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
স্টেডিয়াম জুড়ে হাজার হাজার সমর্থকের গগনবিদারী স্লোগান আর উল্লাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বিজয়। তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তাকে পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন, যেখানে সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জয়ের প্রতিফলন।
বিজয়ের এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়কে অভিনন্দন জানান। নির্বাচনের পর থেকেই কংগ্রেসের সাথে বিজয়ের যে কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, রাহুলের উপস্থিতি তাকে আরও শক্তিশালী করল।
অনুষ্ঠানে টিভিকের জোটসঙ্গীদের শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়াও দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের নামী-দামি তারকারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বিজয় কেবল চলচ্চিত্র নয়, রাজনীতিতেও সবাইকে এক সুতোয় গাঁথতে সক্ষম হয়েছেন।
কেন এই শপথগ্রহণ ঐতিহাসিক?
১৯৬৭ সালের পর থেকে তামিলনাড়ুর রাজনীতি মূলত ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMKE)—এই দুটি দ্রাবিড়ীয় দলের হাতেই বন্দি ছিল। বিজয় সেই প্রথা ভেঙে দিয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির উত্থান ঘটালেন। দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর পর রাজ্যের মানুষ এমন একজন মুখ্যমন্ত্রী পেলেন, যিনি প্রথাগত দ্রাবিড়ীয় ঘরানার বাইরের।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও বিজয়ের সামনে এখন প্রধান কাজ হলো বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা। রাজ্যপালের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৩ মে (বুধবার)-এর মধ্যে তাকে বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হতে হবে। বর্তমানে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন থাকায় বিজয়ের জন্য এই জয় পাওয়া অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র বলে মনে করা হচ্ছে।
এনএন/ ১০ মে ২০২৬









