দক্ষিণ এশিয়া

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বিজয়, থাকছেন রাহুল গান্ধী

চেন্নাই, ১০ মে – তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। চার দিনের তীব্র টানটান উত্তেজনা আর রাজনৈতিক দাবার চাল শেষে অবশেষে সরকার গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যটি। আজ রোববার (১০ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ‘তামিলাগা ভেট্টরি কাঝাগাম’ (টিভিকে) প্রধান সি জোসেফ বিজয়।

১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ডিএমকে বা এআইএডিএমকে-র মতো প্রথাগত দ্রাবিড়ীয় শক্তির বাইরে কোনো অ-দ্রাবিড় নেতা হিসেবে রাজ্যের মসনদে বসছেন ৫১ বছর বয়সী এই অভিনেতা-রাজনীতিবিদ।

গত কয়েক দিনের রাজনৈতিক নাটকীয়তা কোনো থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম ছিল না। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বিজয়কে চারবার রাজভবনে ছুটতে হয়েছে। শুরুতে আসন সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জোটসঙ্গীদের সংহতি নিয়ে বিজয় তার শক্ত অবস্থান প্রমাণ করেন।

গতকাল শনিবার রাজভবনে টিভিকের জ্যেষ্ঠ নেতা কে এ সেনগোট্টাইয়ান এবং আধভ অর্জুনাকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যপালের হাতে সমর্থনপত্র জমা দেন তিনি। এরপরই রাজভবন থেকে বিজয়ের নিয়োগপত্র জারি করা হয়।

সমীকরণের মারপ্যাঁচে বিজয়ের জয়

২৩৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১১৮। বর্তমানে বিজয়ের পক্ষে রয়েছেন ১২০ জন বিধায়ক। এই জয়যাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছে কংগ্রেস ও বাম দলগুলোর কৌশলগত সমর্থন। ভিলুথালাই চিরুথাইগাল কাটচি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) গত রাতে নিঃশর্ত সমর্থন ঘোষণা করায় বিজয়ের সরকার গঠন নিশ্চিত হয়। কংগ্রেস (৫ বিধায়ক), সিপিআই (২ বিধায়ক) এবং সিপিআইএম (২ বিধায়ক) বর্তমান সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আজ সকালেই চেন্নাই পৌঁছেছেন এই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে কংগ্রেসের এই সক্রিয় সমর্থন তামিল রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

১৩ মে’র বড় পরীক্ষা: আস্থা ভোট

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও বিজয়ের সামনে এখন প্রথম ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা। রাজ্যপাল তাকে আগামী ১৩ মে (বুধবার)-এর মধ্যে আস্থা ভোটে জয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান জোটের যে সমীকরণ, তাতে বিজয়ের জন্য এই বৈতরণী পার হওয়া কঠিন হবে না। তবে দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে ডিএমকে-র বাইরে এসে কংগ্রেসের এই অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

আজকের এই ঐতিহাসিক দিনটিকে কেন্দ্র করে চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়াম এবং এর আশপাশের এলাকায় জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয় তারকার রাজনৈতিক অভিষেক দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার সমর্থক ভিড় করেছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য।

তামিলনাড়ুর মানুষ গত কয়েক দশক ধরে সিনেমার তারকাদের রাজনীতিতে সফল হতে দেখলেও, প্রথাগত দ্রাবিড় কাঠামোর বাইরে গিয়ে বিজয়ের এই উত্থান এক নতুন ধারার সূচনা করল। ‘থলপতি’ থেকে এখন তিনি রাজ্যের ‘মুখ্যমন্ত্রী’। এখন দেখার বিষয়, রূপালী পর্দার এই নায়ক বাস্তবের রাজনীতিতে আমজনতার প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারেন।

এনএন/ ১০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language