সব জল্পনার অবসান: তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

চেন্নাই, ৮ মে – তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক আকাশে যে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছিল, তা কেটে গিয়ে উদিত হলো নতুন সূর্য। ‘তামিলাগা ভেত্রি কোজাগাম’ (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয় এখন রাজ্যটির পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অপেক্ষায়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইডিএমকে-র জোট বাঁধার গুঞ্জনকে নস্যাৎ করে দিয়ে বিজয়ের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বামপন্থি দল ও ভিসিকে।
তামিলনাড়ু বিধানসভার ২৩৪টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। একক দল হিসেবে বিজয়ের টিভিকে ২০৮টি আসনে জয়ের দাবি করলেও (তথ্যগত জটিলতা সত্ত্বেও), আসন বিন্যাস ও জোটের সমীকরণ শেষে বিজয় এখন সুবিধাজনক অবস্থানে।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, নির্বাচনের আগে ডিএমকে জোটে থাকা ভিসিকে (৪টি আসন) এবং দুই বামপন্থি দল সিপিআইএম ও সিপিআই (মোট ৪টি আসন) এখন বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগে থেকেই জোটে থাকা কংগ্রেসের ৫টি আসনসহ এই তিনটি দলের মোট ১৩টি আসন যুক্ত হওয়ায় বিজয় জোটের আসন সংখ্যা এখন ১২০, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮-র চেয়ে বেশি।
আজ স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় বিজয় তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরভি আর্লেকারের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো দেখা করতে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় ১১৮ জনের বেশি বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণপত্র (লেটার অফ সাপোর্ট) তিনি রাজ্যপালের কাছে পেশ করবেন। এর মাধ্যমেই দীর্ঘ কয়েক দিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, যেসব দল বিজয়কে সমর্থন দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হতে সাহায্য করছে, তারা নির্বাচনের আগে ডিএমকে-র জোটসঙ্গী ছিল। শেষ মুহূর্তে তাদের এই অবস্থান পরিবর্তন ডিএমকে ও এআইডিএমকে-র ‘গোপন আঁতাত’ করে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
এর আগে বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও সরকার গঠন করতে না পেরে বিজয়ের দল ১০৭ জন বিধায়কের গণ-পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই অনড় অবস্থান এবং জনমতের চাপেই ছোট দলগুলো শেষ পর্যন্ত তাঁর শিবিরে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে।
“এটি কেবল আমার জয় নয়, এটি তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষের জয় যারা পরিবর্তন চেয়েছিল। আমরা একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার উপহার দেব।” – টিভিকে-র পক্ষ থেকে দেওয়া প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া।
রুপালি পর্দার মহাতারকা থেকে রাজসিংহাসনের কর্ণধার—বিজয়ের এই যাত্রা ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। একদিকে দীর্ঘদিনের ডিএমকে-এআইডিএমকে দ্বিমেরু রাজনীতির অবসান ঘটল, অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক নতুন আশার আলো হয়ে ধরা দিলেন থালাপতি বিজয়। এখন কেবল রাজভবনে তাঁর শপথ নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা।
এনএন/ ৮ মে ২০২৬









