দক্ষিণ এশিয়া

স্কুলের খাবারে বিষধর সাপের বাচ্চা! মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ শতাধিক শিক্ষার্থী, বিহারে তুলকালাম!

নয়াদিল্লি, ৮ মে – স্কুলের দুপুরের খাবারে সাপের বাচ্চা! অবিশ্বাস্য মনে হলেও ভারতের বিহারের সাহারসা জেলায় ঘটেছে এমনই এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। সরকারি স্কুলের দেওয়া দুপুরের খাবার খাওয়ার পর মরা সাপের বাচ্চা পাওয়ার খবরে অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাহারসা জেলার মহিষী ব্লকের একটি সরকারি স্কুলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। প্রতিদিনের মতো একটি এনজিওর সরবরাহ করা খাবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছিল। হঠাৎ এক শিক্ষার্থী তার খাবারের থালায় একটি মরা সাপের বাচ্চা দেখতে পায়। মুহূর্তের মধ্যে এই খবর পুরো স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে।

খাবারে সাপ পাওয়ার বিষয়টি জানার পরপরই অনেক শিক্ষার্থী মানসিক আতঙ্ক ও বিষক্রিয়ার প্রভাবে পেটে ব্যথা এবং বমির অভিযোগ করতে শুরু করে। একে একে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে শতাধিক শিশু, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা দ্রুত স্কুলে পৌঁছান। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বেশ কিছু শিশুর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের দ্রুত সাহারসা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় গ্রামবাসী স্কুলে চড়াও হন। একজন অভিভাবক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তার সন্তান বাড়িতে ফিরে খাবারে সাপ পাওয়ার কথা বলতে বলতেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। আরও ভয়াবহ তথ্য দিয়ে কয়েকজন গ্রামবাসী দাবি করেন, তারা স্কুলের অফিসের ভেতরে খাবারের প্লেটের ওপর একটি বড় আকৃতির বিষধর সাপ পড়ে থাকতে দেখেছেন। স্থানীয়দের ধারণা, এটি অত্যন্ত বিষধর ‘তেলিয়া’ প্রজাতির সাপ। এই বীভৎস দৃশ্য দেখে অনেক শিশু ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। সাহারসা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এনজিও, যারা এই খাবার সরবরাহ করেছিল, তাদের রান্নাঘরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা অবিলম্বে ওই এনজিওর লাইসেন্স বাতিল এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ভারতে মিড-ডে মিলে নিম্নমানের খাবার বা খাবারে টিকটিকি-ইঁদুর পাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাপের মতো বিষধর প্রাণীর উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি এনজিওগুলোর ওপর সরকারি তদারকির অভাবই যে এই ধরণের ঘটনার মূল কারণ, তা আবারও প্রমাণিত হলো।

বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এনএন/ ৮ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language