দেশে হামের প্রকোপে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু: আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৪৬ হাজার

ঢাকা, ৮ মে – স্বাস্থ্য খাতের জন্য এক নতুন উদ্বেগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হাম’। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাব এখন বড় ধরণের জনস্বাস্থ্য সংকটের রূপ নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ৮ মে পর্যন্ত হামের ভয়াবহতা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগের। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন মারা গেছে। তবে হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক মৃত্যু যোগ করলে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৫ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২১২ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৭১০ জনে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার ৮৬২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে আশার কথা এই যে, চিকিৎসা শেষে ২৯ হাজার ১৫২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে একটি বড় অংশই মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৮২ জনের শরীরে। গত দেড় মাসে নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৯০ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের তীব্রতা এবং পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।
অল্প সময়ের ব্যবধানে এত বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু এবং হাজার হাজার শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটি কেবল একটি সাধারণ রোগ নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকাগুলোতে যেখানে স্বাস্থ্য সচেতনতা কম, সেখানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও নিবিড় করা প্রয়োজন। আগামীর ভবিষ্যৎ শিশুদের বাঁচাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে।
এনএন/ ৮ মে ২০২৬









