বিশ্ববাজারে দাপট দেখাতে চীনের নতুন স্টিলথ যুদ্ধবিমান জে-৩৫এই

বেইজিং, ৭ মে – নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষার পাশাপাশি এবার বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী স্টিলথ যুদ্ধবিমান জে-৩৫এই সামনে এনেছে চীন। বেইজিং এই যুদ্ধবিমানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ এর সরাসরি বিকল্প এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে। সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই যুদ্ধবিমানের একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল হাঙ্গার থেকে বের করে আনার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে।
যদিও এতে নির্দিষ্ট কোনো বিমানবাহিনীর চিহ্ন ছিল না, তবে প্রস্তুতকারক সংস্থা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়নার ব্র্যান্ডিং স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এটি মূলত বিমানটির রপ্তানি সংস্করণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেনিয়াং এয়ারক্রাফট কর্পোরেশনের তৈরি এই পঞ্চম প্রজন্মের বহুমুখী স্টিলথ ফাইটারটি চীনের জে-২০-এর পর দ্বিতীয় বড় সাফল্য। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিমানের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রেতা হতে যাচ্ছে পাকিস্তান।
বিশেষ করে গত বছরের অপারেশন সিন্দুর পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারতের সাথে আকাশপথে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে ইসলামাবাদ এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহে অত্যন্ত আগ্রহী। যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই ক্রয় সংক্রান্ত খবরকে নিছক আলোচনা বলে কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করেছেন, তবে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে পাকিস্তানি পাইলটরা ইতিমধ্যেই চীনে এই বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে জে-৩৫এই অত্যন্ত আধুনিক ও শক্তিশালী। এটি শব্দের চেয়ে প্রায় ১.৮ গুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। এর শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা একই সাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে। শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য এর অস্ত্রভাণ্ডার বিমানের মূল কাঠামোর ভেতরে রাখা হয়েছে, যেখানে পিএল-১৫-এর মতো বিধ্বংসী আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল বহন করা যায়।
চীনের দাবি অনুযায়ী, তারা প্রতি ৭২ ঘণ্টায় একটি করে নতুন বিমান তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। মূলত মার্কিন এফ-৩৫-এর তুলনায় অনেক কম মূল্যে এবং সহজলভ্য বিকল্প হিসেবে চীন এই জে-৩৫এই বিমানটিকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে আসছে। প্রতিটি ইউনিটের দাম ৩৫ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সাথে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ২০২৬ সালের শেষভাগ বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তারা এই আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর সরবরাহ পেতে শুরু করবে।
এস এম/ ৭ মে ২০২৬









