দক্ষিণ এশিয়া

চীনের অত্যাধুনিক হাঙর সাবমেরিন পেল পাকিস্তান: ভারত মহাসাগরে বাড়ছে নৌ-সক্ষমতা

 

ইসলামাবাদ, ৫ জুলাই – পাকিস্তান নৌবাহিনীতে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে চীনের তৈরি অত্যাধুনিক স্টিলথ সাবমেরিন পিএনএস হাঙর। দীর্ঘ সময় পানির নিচে গোপনে অভিযান পরিচালনায় সক্ষম এই সাবমেরিনটি পাকিস্তানের সামরিক শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরমাণু শক্তিধর দেশটির দাবি,

এই সাবমেরিন শুধু তাদের সামুদ্রিক সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং ভারত মহাসাগরে কৌশলগত অবস্থান আরও সুসংহত করবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সংযোজন দক্ষিণ এশিয়ায় নৌ শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তান এই অঞ্চলে তাদের কার্যকর উপস্থিতি বজায় রাখতে পারেনি। তবে কয়েক সপ্তাহ আগে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। গত এপ্রিলে এই সাবমেরিনটি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পর গত ১১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে করাচি বন্দরে স্বাগত জানানো হয়।

পাকিস্তান মোট আটটি এই ধরনের সাবমেরিন সংগ্রহ করবে যার মধ্যে এটি প্রথম। মিশন কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানান, পিএনএস হাঙর একটি গেমচেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের সমুদ্রসীমার বাইরেও দূরবর্তী স্থানে দীর্ঘকালীন অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।

বিশেষ করে পূর্ব ভারত মহাসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি জোরালো হবে। ৭৬ মিটার দীর্ঘ এই সাবমেরিনটিতে উন্নত এয়ার ইনডিপেনডেন্ট প্রপালশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির কারণে সাবমেরিনটি বাতাস ছাড়াই কয়েক সপ্তাহ পানির নিচে থাকতে পারে এবং এর শব্দের মাত্রা অত্যন্ত কম হওয়ায় শত্রুপক্ষের পক্ষে এটি শনাক্ত করা বেশ কঠিন।

এই সাবমেরিনে ছয়টি ৫৩৩ মিলিমিটার টর্পেডো টিউব রয়েছে যা থেকে টর্পেডো ও দূরপাল্লার জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল ছোড়া সম্ভব। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি চীনের হাইনান প্রদেশে এই সাবমেরিনটি গ্রহণকালে বলেন, আধুনিক নেভিগেশন ও অস্ত্রসজ্জিত এই বহর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

পুরো প্রকল্পটি ২০৩২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের হাতে বর্তমানে ১৯টি সাবমেরিন থাকলেও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই আধুনিকায়ন ভারতকে নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও পাকিস্তানের নৌ সক্ষমতা বৃদ্ধি এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এস এম/ ৫ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language