বিশ্বকাপের নকআউটে মুখোমুখি স্পেন ও পর্তুগাল: স্পেনের সামনে প্রতিশোধের হাতছানি

মাদ্রিদ, ৫ জুলাই – এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে আবারও ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন ও পর্তুগাল মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এবারের লড়াইয়ের মঞ্চ অনেক বেশি বড়। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ ১৬ এর লড়াইয়ে নামছে এই দুই পরাশক্তি।
গত উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে হারের সেই তিক্ত স্মৃতি ভুলে পর্তুগালের বিপক্ষে প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় ডালাসে শুরু হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত আইবেরিয়ান ডার্বি।
গত বছরের নেশন্স লিগ ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে পর্তুগাল ৫-৪ ব্যবধানে জয় পায়। সেই হারের জবাব দিতে মরিয়া স্প্যানিশরা। এই ম্যাচে একদিকে রয়েছেন পর্তুগালের অভিজ্ঞ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং অন্যদিকে স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিন ইয়ামাল।
দুই প্রজন্মের এই দ্বৈরথ ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। নেশন্স লিগের ফাইনালের পর স্পেন নিজেদের দারুণভাবে গুছিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে তারা টানা ৩৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। গত ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে গোল হজম করার পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এখন পর্যন্ত কোনো দল তাদের জালে বল জড়াতে পারেনি।
স্পেনের বলের দখল ও দ্রুত আক্রমণের বিপরীতে পর্তুগালও প্রস্তুত। পর্তুগিজ মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ভিতিনিয়ার মতো সৃজনশীল ফুটবলাররা যেকোনো মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। পর্তুগালের ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেস গতবার ইয়ামালকে আটকে রেখে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
এবারের লড়াইয়েও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যদিকে স্পেনের আক্রমণভাগে মিকেল ওইয়ারসাবাল নিয়মিত গোল পাচ্ছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে স্পেন নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইয়ামাল জানিয়েছেন যে তারা কাউকেই ভয় পান না।
পর্তুগাল অবশ্য গ্রুপ পর্বে এবং নকআউটের আগের ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এসেছে। শেষ ৩২ এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে বেশ ঘাম ঝরাতে হয়েছে রবের্তো মার্তিনেসের দলকে।
তবে দলের প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৪১ বছর বয়সেও গোলের নেশায় মত্ত। ক্যারিয়ারের হাজারতম গোলের মাইলফলকের সামনে থাকা রোনালদোর জন্য প্রতিটি ম্যাচই এখন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পর্তুগিজ এই কিংবদন্তির এটিই শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এস এম/ ৫ জুলাই ২০২৬









