নেইমার এর যুগের অবসান, ভিনিসিয়ুস এর কাঁধে নেতৃত্ব: সামনে নরওয়ের মিশন

ব্রাসিলিয়া, ৫ জুলাই – ২০০২ সালে জাপানের ইয়োকোহামায় জার্মানিকে পরাজিত করে সর্বশেষ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর প্রায় দুই যুগ কেটে গেলেও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা।
গত কয়েক আসরে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম এবং ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে এই দীর্ঘকালীন ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে আজ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল।
আর এই মিশনে দলটির মূল ভরসা হিসেবে কাজ করছেন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কাতার বিশ্বকাপের পরবর্তী সময়ে ব্রাজিল ফুটবল এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। প্রশাসনিক জটিলতা এবং বারবার কোচ পরিবর্তনের ফলে দলের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটেছিল।
তবে আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ে দলে আমূল পরিবর্তন এনেছেন। তার অধীনে সেলেসাওরা এখন অনেক বেশি গোছানো এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে। বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে আনচেলত্তি প্রতিভার চেয়ে মানসিক দৃঢ়তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এরই অংশ হিসেবে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোচিং স্টাফে মারিসা সান্তিয়াগো নামে একজন পেশাদার নারী ক্রীড়া মনোবিজ্ঞানীকে যুক্ত করেছেন তিনি। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ইতিবাচক রাখা এবং মাঠের চাপ সামলানোর বিষয়ে খেলোয়াড়দের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন এই মনোবিজ্ঞানী।
দলের এই পরিবর্তনের ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটে উঠেছে। এর আগে প্রথমে গোল হজম করলে ব্রাজিলকে খেই হারিয়ে ফেলতে দেখা যেত। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালের পর গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়া ১২টি ম্যাচের মধ্যে সাতটিতেই তারা পরাজিত হয়েছিল। তবে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে সেই চিত্র বদলে যায়।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও আনচেলত্তির দিকনির্দেশনায় দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল। দলের নেতৃত্বেও আনচেলত্তি এনেছেন কঠোর পেশাদারিত্ব। ব্যক্তিগত আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে বর্তমান ফর্ম ও শারীরিক সক্ষমতাকে তিনি সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
যার ফলে তারকা ফুটবলার নেইমারকেও মাঝেমধ্যে দলের কৌশলের স্বার্থে একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে। বর্তমানে দলের আক্রমণভাগের মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আজ নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেলে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালই নয় বরং দীর্ঘদিনের ইউরোপীয় ট্রমা কাটিয়ে হেক্সা জয়ের পথে এক নতুন আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাবে ব্রাজিল।
এস এম/ ৫ জুলাই ২০২৬









