তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সংকটে ভাইরাল প্রমোদ মহাজনের তিন দশক আগের সেই ভাষণ

চেন্নাই, ৯ মে – তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ঝুলন্ত ফলাফলের পর সরকার গঠন নিয়ে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিন দশক আগের বিজেপি নেতা প্রমোদ মহাজন। বিশেষ করে অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম একক বৃহত্তম দল হয়েও সরকার গঠনের আমন্ত্রণ না পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ১৯৯৭ সালের একটি ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গ নতুন করে ভাইরাল হয়েছে।
১৯৯৭ সালের ১১ এপ্রিল লোকসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়ার ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকারের আস্থা ভোটের বিতর্কে প্রমোদ মহাজন এক অবিস্মরণীয় বক্তব্য দিয়েছিলেন। বর্তমানে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মধ্যকার সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে যখন গুঞ্জন বাড়ছে, তখন সামাজিক মাধ্যমে মহাজনের সেই ভাষণের ভিডিওটি আবার ছড়িয়ে পড়েছে।
ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৬১টি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শঙ্কর দয়াল শর্মা অটল বিহারী বাজপেয়ীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলেও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে টিডিপি, ডিএমকে ও আসাম গণপরিষদের মতো আঞ্চলিক দলগুলো সমর্থন দিতে অস্বীকার করে। এর ফলে মাত্র ১৩ দিনের মাথায় বাজপেয়ী সরকারকে পদত্যাগ করতে হয়।
পরবর্তীতে কংগ্রেসের বাইরে থেকে দেওয়া সমর্থনে ইউনাইটেড ফ্রন্ট গঠিত হয় এবং দেবেগৌড়া প্রধানমন্ত্রী হন। তবে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সেই সমঝোতাও। কংগ্রেস সভাপতি সীতারাম কেশরীর অভিযোগ ও দুর্নীতির তদন্ত ঘিরে অসন্তোষের জেরে ১৯৯৭ সালের ৩০ মার্চ কংগ্রেস সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।
আস্থা ভোটের সেই অগ্নিপরীক্ষায় প্রমোদ মহাজন জোট রাজনীতির অসঙ্গতি তুলে ধরে ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেছিলেন যে, সবচেয়ে বড় দল রয়েছে বিরোধী আসনে, দ্বিতীয় বড় দল বাইরে থেকে সমর্থন দিচ্ছে এবং একটি আসনের দলের প্রতিনিধিও মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছে। তার সেই রসিকতায় পুরো সংসদ হাসিতে ফেটে পড়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তামিলনাড়ুর বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের সেই পুরনো জোট রাজনীতির বাস্তবতাকে আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এস এম/ ৯ মে ২০২৬









