ফুটবল

লিওনেল মেসির বংশলতিকায় ব্রাজিলের সংযোগ: ইতিহাসবিদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

বুয়েনোস আইরেস, ২৫ জুলাই – আর্জেন্টিনার ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির পারিবারিক শিকড় নিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ গবেষণার পর ইতালীয় ইতিহাসবিদ ও ব্যাংকার ফিওরেঞ্জো সান্তিনি দাবি করেছেন যে, মেসির বংশলতিকার সাথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের গভীর সংযোগ রয়েছে। বিশেষ করে মেসির মায়ের দিকের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

সান্তিনি প্রথমে মেসির পিতৃসূত্রের ইতিহাস নিয়ে কাজ শুরু করেন। তিনি জানতে পারেন যে মেসির প্রপিতামহ অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৯৩ সালে ইতালির মারকে অঞ্চল থেকে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে পাড়ি জমান। পরবর্তীকালে মেসির বাবার অনুরোধে তিনি তার মায়ের দিকের বংশপরিচয় নিয়েও গবেষণা শুরু করেন যাতে মেসির ইতালীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী মেসির মাতৃসূত্রের পূর্বপুরুষ রানিয়েরো কোচেত্তিনি ১৮৯৯ সালে সপরিবারে ইতালি থেকে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। ঐতিহাসিক নথিতে দেখা যায় রানিয়েরো তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সাও পাওলোর একটি খামারে কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯০৪ সালে সেখানেই তার ছেলে আরদেরিগোর জন্ম হয়।

ভাষাগত জটিলতার কারণে ব্রাজিলের সরকারি নথিতে আরদেরিগোর নাম পরিবর্তন করে ফেদেরিকো এবং তাদের পারিবারিক পদবি কোচেত্তিনি থেকে কুচ্চিত্তিনি হয়ে যায়। এই ফেদেরিকোই হলেন লিওনেল মেসির প্রপিতামহ।

ফেদেরিকোর জন্মের মাত্র এক বছর পর ১৯০৫ সালে পুরো পরিবারটি ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে বসতি স্থাপন করে। সেখানেই পরবর্তীতে মেসির নানা আন্তোনিও কুচ্চিত্তিনি এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনির জন্ম হয়।

সান্তিনি জানান যে ইতালিতে কুচ্চিত্তিনি নামে কোনো পদবির অস্তিত্ব নেই। ব্রাজিলে অবস্থানের সময় বানান বিভ্রাটের কারণেই এই নতুন পদবির সৃষ্টি হয়েছিল যা বর্তমানে মেসির নামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে শহর মেসিকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।

এদিকে মেসির ব্রাজিলীয় শিকড় নিয়ে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ফুটবল বিশ্বে বেশ শোরগোল শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ব্রাজিলীয় সমর্থক রসিকতা করে বলছেন যে মেসি যদি ব্রাজিলের হয়ে খেলতেন তবে সেলেসাওদের হয়তো ষষ্ঠ বিশ্বকাপের জন্য এত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হতো না।

এনএন/ ২৫ জুলাই ২০২৬


Back to top button