ফুটবল

ইনফান্তিনোর ওপর মহা চাপ! ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন প্রত্যাহার

প্যারিস, ১০ সেপ্টেম্বর – আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠল। আগামী ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে নিজেদের সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। এর ফলে ইউরোপীয় ফুটবলের পাওয়ার হাউসগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে কার্যত চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এই সুইস-ইতালিয়ান কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক কঠোর বিবৃতিতে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে।

সমর্থনের সিদ্ধান্ত বদল ও ক্ষোভের কারণ

ইতোপূর্বে গত জুনে ইনফান্তিনোকে সমর্থন জানালেও ফিফার সাম্প্রতিক বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে ফ্রান্স:

সুশাসনের নীতি লঙ্ঘন: এফএফএফ জানিয়েছে, ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ সুশাসনের মৌলিক নীতি এবং ফুটবলের সার্বিক মূল্যবোধের সঙ্গে গভীরভাবে সাংঘর্ষিক।

বেসরকারি বিনিয়োগের বিতর্কিত উদ্যোগ: ইনফান্তিনো ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনার জন্য একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে সেখানে ২০% শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন। ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য মহাদেশীয় কনফেডারেশনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল করতে বাধ্য হলেও এই ঘটনায় ফিফা প্রধানের প্রতি আস্থা হারিয়েছে সদস্য দেশগুলো।

উরোপজুড়ে অসন্তোষ: শুধু ফ্রান্সই নয়—ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি ও বেলজিয়ামসহ ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলোও ইতোমধ্যেই ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

বিকল্প প্রার্থীর খোঁজে উয়েফা

এখন পর্যন্ত আগামী মার্চে মরক্কোর রাবাতে হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি নির্বাচনে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোই একমাত্র ঘোষিত প্রার্থী। তবে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন প্রার্থীদের নাম জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘উয়েফা’ জানিয়েছে, তারা ভোটের আগেই ইনফান্তিনোর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিতে পারে এমন একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্য’ বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশ্ব ফুটবলে ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত বিশাল প্রভাব রয়েছে। ফলে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্সের এই আকস্মিক সমর্থন প্রত্যাহার কেবল একটি দেশের সিদ্ধান্ত নয়—বরং ফিফার বর্তমান একচ্ছত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

এনএন/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button