জাতীয়

বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, যাত্রা শুরু নতুন এলিট ফোর্স ‘এসআরবি’র! সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর – দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর অবসান ঘটলো এলিট ফোর্স ‘র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন’ (র‍্যাব)-এর যুগের। আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা রক্ষায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল-২০২৬’ সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্পিকার মির্জা হাফিজ উদ্দিন আহমদের পরিচালনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

আইনগত সীমাবদ্ধতা দূর ও নতুন ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা

২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের অধীনে এতদিন পরিচালিত হয়ে আসছিল র‍্যাব। তবে সেই আইনি কাঠামো পূর্ণাঙ্গ ছিল না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পাস হওয়া বিলে বলা হয়, সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় কঠোর শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নতুন রূপান্তর। পূর্বের আইনি ধোঁয়াশা দূর করে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই নতুন এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

কেমন হবে নতুন ইউনিট ‘এসআরবি’?

পাস হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী এসআরবি-র কাঠামো ও ক্ষমতাগুলো হলো:

বিশেষায়িত ইউনিট: বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি অতি আধুনিক ও বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে এসআরবি।

নিজস্ব পরিচয়: এই ফোর্সের নিজস্ব প্রতীক, পতাকা এবং আলাদা পোশাক থাকবে।

নেতৃত্ব: পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তা মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

গঠনপ্রক্রিয়া: পুলিশ সদস্য ছাড়াও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রেষণ বা নিয়োগের মাধ্যমে এখানে যুক্ত করা হবে।

বিশেষ ক্ষমতা: যেকোনো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দ করার সরাসরি ক্ষমতা পাবে এসআরবি। একই সাথে এর নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বড় পদক্ষেপ

অতীতের বিতর্ক এড়াতে এবং মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে এসআরবি-তে যোগ করা হয়েছে বিশেষ মেকানিজম। বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভ্যন্তরীণ বা সাধারণ জনগণেরযেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্ত ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি’ কাজ করবে।

এর মাধ্যমে অপরাধ দমনে যেমন নতুন গতি আসবে, তেমনি বাহিনীটির ভেতরে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকবে বলে আশা করছে সরকার।

এনএন/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button