হরমুজ নয়, এবার ট্রাম্প প্রণালি!—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ের দাবি করে নতুন নাম ঘোষণা ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ১০ সেপ্টেম্বর – কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি আমেরিকার হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেবল নিয়ন্ত্রণই নয়, এক ধাপ এগিয়ে এই প্রণালির নাম বদলে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার বিষ্ফোরক ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। একই সাথে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বাহিনী সহজ জয় পেতে যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।
বুধবার রাতে টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত রিপাবলিকান পার্টির মিডটার্ম কনভেনশনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
‘ট্রাম্প প্রণালি’ এবং তেলের বাজারের বার্ত
সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির বাণিজ্য ও নিরাপত্তা তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।
নতুন নামকরণের ঘোষণা: ট্রাম্প বলেন, “আমরাই এতে জয়ী হচ্ছি। পুরো হরমুজ প্রণালি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমার মনে হয়, এটাকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলা উচিত। আমারও তো এখান থেকে কিছু পাওয়া উচিত, তাই না?”
ইরানকে কটাক্ষ: হালকা রসিকতার ছলে তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা এটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলেই ডাকব এবং আমি নিশ্চিত যে ইরানের নেতৃত্ব এই নাম শুনে দারুণ রোমাঞ্চ বোধ করবে।”
তেলের দাম কমার আশা: ইরানের সাথে চলমান এই সংঘাত বা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, জয় পাওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে কমে আসবে।
‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলার কঠোর হুঁশিয়ারি
বক্তব্যে ইরানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছে। গত ৫১ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে একচ্ছত্র দাপট দেখায় ইরান, তবে তাদের সেই ‘দাদাগিরি’ বা মাস্তানি এখন শেষ।
তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভেস্তে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্র ‘পিকঅ্যাক্স’ (Pickaxe Mountain)-এ যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দারা সার্বক্ষণিক সেখানকার প্রতিটি নাড়াচাড়া পর্যবেক্ষণ করছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা জানি সেখানে কী ঘটছে। আমি ইরানকে কোনো চালাকি না করার পরামর্শ দেব, অন্যথায় চরম আঘাত হানা ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনো পথ থাকবে না। আমরা কখনোই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেব না”
উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির স্বার্থে চলতি বছরের জুনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তবে সংঘাত কমেনি। গত কয়েক মাসে সমুদ্রসীমায় ট্যাঙ্কার জব্দ ও দফায় দফায় সামরিক হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এনএন ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬







