গেরুয়া ঝড়ে মমতার বিদায়: পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা, ৮ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে রচিত হলো এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের এই অঙ্গরাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে কলকাতার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
আগামীকাল শনিবার (৯ মে) কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে আজ কলকাতায় আসেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি।
বৈঠক শেষে অমিত শাহ সাংবাদিকদের বলেন, “পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় আটটি ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব এসেছিল এবং প্রতিটি প্রস্তাবই ছিল শুভেন্দু অধিকারীর নামে। দ্বিতীয় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আমরা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করছি।”
এখন নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন রাজ্যপাল আরএন রবি। সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে তিনি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন মেয়াদের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটান।
গত ৪ মে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০০টিরও বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, গত তিন নির্বাচনে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখানো তৃণমূল কংগ্রেসকে এবার বড় ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া কেবল ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং বিজেপির জন্য এটি একটি বিশাল কৌশলগত বিজয়। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সেনাপতি হিসেবে পরিচিত শুভেন্দুই শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের দুর্গ পতনের কারিগর হিসেবে আবির্ভূত হলেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ‘হিন্দুত্ববাদী’ কোনো দলের ক্ষমতায় আসা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামীকালকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কলকাতার রাজপথ এখন কেবল নতুন মুখ্যমন্ত্রীর অভিষেকের অপেক্ষায়।
এনএন/ ৮ মে ২০২৬









