পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের ভাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা!

কলকাতা, ৭ মে – পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ী হয়ে বিজেপির সরকার গঠনের প্রস্তুতির মাঝেই উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রাথ। বুধবার (৬ মে) ভরদুপুরে এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে চন্দ্রনাথ রাথ এবং তাঁর এক সঙ্গী ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মধ্যমগ্রাম এলাকায় তাঁদের গাড়িটি যানজটে পড়ে কিছুটা ধীর গতি হতেই পেছন থেকে ধাওয়া করে আসা আততায়ীরা অতর্কিতে হামলা চালায়।

গাড়ি লক্ষ্য করে মোট চারটি গুলি ছোড়া হয়, যার মধ্যে তিনটি সরাসরি চন্দ্রনাথের শরীরে বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন। গাড়িতে থাকা তাঁর অপর সঙ্গীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই নতুন সরকারের কাণ্ডারি তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম যখন চূড়ান্ত, ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই তাঁর ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথ রাথকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খেল গেরুয়া শিবির।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। শুভেন্দুর বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ মহলের অন্যতম সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

জনাকীর্ণ এলাকায় এই ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের এই ক্রান্তিলগ্নে একজন হেভিওয়েট নেতার সহকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। নির্বাচনে হার মেনে নিতে না পেরে প্রতিপক্ষ এই ধরনের নাশকতামূলক কাজ করছে বলে তাঁদের অভিযোগ। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে ঘাতকদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এলাকাটি সিল করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং নতুন সরকারের আগমনের আগে এটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীর মতো দাপুটে নেতার খাসতালুকে ঢুকে তাঁর সহকারীকে হত্যা করা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী কয়েকদিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

এনএন/ ৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language