৯ মে শপথ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার

কলকাতা, ৬ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে তিলোত্তমা। আগামী ৯ মে, শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। বুধবার (৬ মে) নবান্নে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় ঘোষণা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক ভট্টাচার্য জানান, আগামী শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেডে এই মেগা অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। বিশেষ বিষয় হলো, ওই দিনটি বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম আবেগের দিন—২৫শে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর এই পবিত্র দিনটিকেই শপথের জন্য বেছে নিয়েছে নতুন শাসক দল।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড মূলত রাজনৈতিক শক্তির মহড়া বা জনসভার জন্য পরিচিত। তবে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এই বিশাল ময়দানে আয়োজিত হওয়াকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শপথ গ্রহণের স্থানের পাশাপাশি সরকার পরিচালনার কেন্দ্র নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বর্তমান সচিবালয় ‘নবান্ন’র পরিবর্তে পুনরায় ঐতিহ্যের ‘মহাকরণ’ (Writers’ Buildings) থেকেই সরকার চালানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চলছে। দলের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে, ঐতিহ্যের পুনরুত্থান এবং প্রশাসনিক আমূল পরিবর্তন আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
শপথের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেও রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে বিজেপি নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্য এই বিষয়ে সরাসরি কোনো নাম না বললেও রাজনৈতিক মহলে বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই চূড়ান্ত নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডের মতো জায়গায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সরকার তাদের জনসমর্থনের ব্যাপকতা এবং শক্তির জানান দিতে চাইছে। যেখানে বাম জমানা কিংবা তৃণমূল জমানার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে সীমাবদ্ধ পরিসরে হতো, সেখানে বিজেপির এই ‘বিশালতা’র কৌশল ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২৫শে বৈশাখের ভোরে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর, সকাল ১০টায় ব্রিগেডের মঞ্চে কারা শপথ নেবেন এবং কে হবেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী কান্ডারি—তা জানতে এখন মুখিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যবাসী।
এনএন/ ৬ মে ২০২৬









