ইসরায়েলে প্রথম ‘হান্টাভাইরাস’ শনাক্ত: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

তেল আবিব, ৮ মে – করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্ব যখন নতুন নতুন ভাইরাসের হুমকিতে বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই ইসরায়েলে প্রথমবারের মতো বিরল ও প্রাণঘাতী ‘হান্টাভাইরাস’ আক্রান্ত একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। মূলত আন্তর্জাতিক ভ্রমণের মাধ্যমেই এই ভাইরাসটি দেশটিতে প্রবেশ করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তি সম্প্রতি পূর্ব ইউরোপ ভ্রমণ করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই তিনি ভাইরাসে সংক্রমিত হন। পিসিআর (PCR) পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে হান্টাভাইরাসের জিনগত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই রোগী হান্টাভাইরাসের ‘ইউরোপীয় ভ্যারিয়েন্ট’-এ আক্রান্ত। এর আগে দক্ষিণ আমেরিকা ভ্রমণে গিয়ে কয়েকজনের আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ থাকলেও, এবারই প্রথম ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত কোনো রোগী পাওয়া গেল।
ইসরায়েলে এই সংক্রমণ এমন এক সময়ে ধরা পড়ল যখন ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীতে এই ভাইরাসের আক্রমণে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জাহাজটিতে ২৩টি দেশের ১৪৭ জন আরোহী ছিলেন। আক্রান্তদের অধিকাংশের মধ্যেই তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা গেছে। জাহাজটি বর্তমানে কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
হান্টাভাইরাস কী এবং কেন এটি বিপজ্জনক?
হান্টাভাইরাস মূলত একটি জুনোটিক (প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ায়) ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও সিডিসি (CDC)-র তথ্যমতে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- বাহক: ইঁদুর বা বন্য প্রাণীর মূত্র, বিষ্ঠা বা লালারস থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
- জটিলতা: এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে মূলত দুই ধরণের সমস্যা তৈরি করে—মারাত্মক শ্বাসকষ্ট (HPS) অথবা কিডনি বিকল হওয়া (HFRS)।
- চিকিৎসা: এই ভাইরাসের জন্য এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সহায়ক চিকিৎসাই বাঁচার একমাত্র উপায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পর্যটকদের বিশেষ করে যারা বন্য এলাকা বা ইঁদুর প্রবণ স্থানে ভ্রমণ করেন, তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের মাধ্যমে এটি এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনই প্যানিক বা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই এই মুহূর্তে প্রধান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
এনএন/ ৮ মে ২০২৫









