জাতীয়

শাপলা চত্বর ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: তদন্ত কমিশন ও বিচারের দাবিতে সরব বিরোধীদলীয় নেতা

ঢাকা/ ৫ মে – ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। এই বিশেষ দিনে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন গঠনের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৫ মে) এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনার বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বিবৃতিতে ৫ মে-র ঘটনাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ‘বেদনাবিধুর ও কলঙ্কজনক’ অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “সেদিন ধর্মপ্রাণ তাওহিদী জনতার ওপর যে নির্মম অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তা জাতির বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড মানবতা, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থি একটি জঘন্যতম ঘটনা।”

বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন যে, এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বিচার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁর মতে, বিচার না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যেমন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা ও ক্ষোভ দানা বাঁধছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সভ্য রাষ্ট্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কাম্য হতে পারে না।

সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। শক্তি প্রয়োগ করে প্রাণহানির মাধ্যমে সেই অধিকার দমন করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার দাবি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধীদলীয় নেতার এই দাবি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সেই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসংখ্য পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্তি। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হলে ওইদিন ঠিক কতজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং কারা নেপথ্যে থেকে অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই ধোঁয়াশা কেটে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৫ মে-র সেই স্মৃতি আজও জনমনে দগদগে। ডা. শফিকুর রহমানের এই বিবৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বর্তমান সংসদে এই ইস্যুটি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। সত্য উদঘাটনই হতে পারে সামাজিক ক্ষত নিরাময়ের একমাত্র পথ।

এনএন/ ৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language