পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিপর্যয়ের আটটি নেপথ্য কারণ: আনন্দবাজারের বিশেষ বিশ্লেষণ

কলকাতা, ৫ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ উঠে এসেছে। আনন্দবাজার পত্রিকার এক বিশেষ বিশ্লেষণে আটটি প্রধান বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে যা শাসকদলের জন্য প্রতিকূলতা তৈরি করেছে। প্রথমত ১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনামলে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা বা এন্টি ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় নেতাদের দুর্নীতি এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা এই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগগুলো তৃণমূলের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন ও কয়লা পাচার কাণ্ডে দলের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিধায়কদের গ্রেফতারি জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠর বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের দৃশ্য ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
এছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ভুয়া ভোটারদের বাদ দেওয়াও তৃণমূলের চিরাচরিত ভোট ব্যবস্থার ওপর আঘাত এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক তোষণের অভিযোগ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাবও এই বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
প্রশাসন ও পুলিশের ওপর থেকে রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়া এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তায় ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি দূর হয়েছে। এছাড়া ভোটগ্রহণের দিনগুলোতে কোনও ধরনের বড় অশান্তি বা ছাপ্পা ভোটের সুযোগ না থাকায় ফলাফল ভিন্ন রূপ নিয়েছে। সর্বশেষ পরামর্শদাতা সংস্থা আই প্যাকের কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়া এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযানের ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোও বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এস এম/ ৫ মে ২০২৬









